সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
সাড়ে ৩১ ভরি সোনার গহনা ও তিন কোটি ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্ত্রীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার যশোর শহরের বেজপাড়া এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয় এলাকার আনন্দ কুমার সরকার বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী স্বপন কুমার ভদ্র।
আসামিরা হলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের পবিত্র সরকারের মেয়ে ফাল্গুনী সরকার রিমি ওরফে সাবা ও কুন্দসী গ্রামের শেখ মনিরুজ্জামানের স্ত্রী সেলিনা খানম।
অভিযোগে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আনন্দ সরকার ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে সাবাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় সাবাকে সাড়ে ৩১ ভরি সোনার গহনা দিয়েছিলেন আনন্দ সরকার। সুখে-শান্তিতেই তাদের সংসার চলছিল। ২০১৯ সালে সাবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাবার বাড়ি কয়েক মাস থাকবে বলে জানান। এপ্রিল মাসে সাবা তার বাবার বাড়ি চলে যান সোনার গহনাগুলো নিয়ে। তাকে বাড়ি আসার কথা বললে অসুস্থতার কথা বলে সেখানে থেকে যায়। এরইমধ্যে চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ বাবদ সাবাকে মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে ৯১ লাখ ৩৭ হাজার ও ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সেলিনা খানমের বিকাশ ও নগদে এবং দুই আসামির তিনটি ব্যাংক হিসাবে দুই কোটি ২০ লাখ ৭৩ হাজার ১১৫ টাকা পাঠানো হয়। সাবা তার বাবার বাড়ি অবস্থানকালে তার কাছ থেকে মোট তিন কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ১১৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।
চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি তিনি (আনন্দ সরকার) জানতে পারেন, তার স্ত্রী সাবা ধর্মান্তরিত হয়ে রাসেল শেখ নামে একজনকে বিয়ে করে সংসার করছেন। আনন্দ সরকার তার স্ত্রী সাবার কাছে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন।
৩১ জানুয়ারি আনন্দ সরকার তার শ্বশুরবাড়ি যেয়ে তার দেওয়া টাকা ফেরত চান। তার সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন টাকা ও গহনা ফিরিয়ে দিবেন বলে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা করেন। পরবর্তীতে সাবা ও তার সহযোগীরা টাকা ও গহনা ফিরিয়ে দেবে না বলে জানিয়ে দেন। টাকা ও গহনা দাবি করলে অপহরণ করে হত্যা করবে বলে হুমকি দেন।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।