কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
মিম খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আকাশের বিরুদ্ধে।
বুধবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিম খাতুনের মৃত্যু হয়।
কুষ্টিয়া শহরতলীর বাড়াদী গ্রামের কানাবিল মোড় এলাকার বাসিন্দা আকাশ মাদকাসক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মিমের ছোট ভাই সদর উপজেলার যুগিয়া গ্রামের আবির হোসেন জানান, তার ভগ্নিপতি মাদকাসক্ত আকাশ প্রায়ই টাকার জন্য বোন মিমকে নির্যাতন করতেন। গত ১ জুন দুপুরে বোন তাদের বাড়িতে ছিল। আকাশ সেখানে গিয়ে নেশার জন্যে টাকা চান। টাকা না দেওয়ায় তিনি বোনের ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি নিয়ে চলে যান। মঙ্গলবার বিকেলে মিম মোবাইলফোনটি নিতে আকাশের বাসায় গেলে তাকে বেধড়ক মারপিট এবংগেলা টিপে ধরে। অচেতন হয়ে পড়লে তার বোনকে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চলানোর চেষ্টা করে।
বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা সেখান থেকে অচেতন ও মুমূর্ষু অবস্থায় মিমকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করেন কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই কাজী সামসুল আলম। তিনি জানান, নিহতের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত জখম রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. কবীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, বুধবার সকালে নির্যাতনে আহত এক গৃহবধূর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
ওই দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু রয়েছে।