মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে মেয়ের শ্যালক ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক বৃদ্ধ বাবা ও তার সঙ্গী। শনিবার (২৭ জুন) মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের নাগড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা, মেয়ে ও তাদের এক আত্মীয় মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের হরিনাডাঙ্গা গ্রামের মৃত হাকিম মোল্যার ছেলে আক্তার মোল্যা ও তার সঙ্গী শরিফুল ইসলাম শনিবার নাগড়া গ্রামে আক্তার মোল্যার মেয়ে পাখি বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। পাখি বেগমের স্বামী উমর আলী শেখ ঢাকায় চাকরি করার সুবাদে বাড়িতে না থাকায় প্রায়ই তাকে নির্যাতন করত দেবর নুর ইসলামসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
খবর পেয়ে শনিবার বাবা আক্তার মোল্যা ও শরিফুল সেখানে পৌঁছালে দেবর নুর ইসলাম ও তার সহযোগীরা কৌশলে তাদের একটি ঘরে আটকে রাখে। এরপর তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা ও মারধর চালায়। বাবাকে রক্ষা করতে গেলে মেয়ে পাখি বেগমকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহম্মদপুর থানা পুলিশের পরামর্শে স্থানীয় দীঘা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমান, বাদশা মিয়া ও আকবার মেম্বার শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে পাখির স্বামী উমর আলী শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তারা প্রায়ই আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করে। আমরা দুর্বল হওয়ায় এতকাল নীরবে সহ্য করেছি। কিন্তু বেড়াতে আসা শ্বশুর ও তার সঙ্গীর ওপর এমন বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না।
হাসপাতালে শয্যাশায়ী আক্তার মোল্যা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়ের দেবর নুর ইসলামসহ তার লোকজন আমাদের কৌশলে ঘরে আটকে রেখে দফায় দফায় অমানুষিক নির্যাতন করেছে। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার মেয়ে পাখিও মার খেয়েছে। মেহমান হিসেবে গিয়ে এমন বর্বরতার শিকার হব তা কল্পনাও করিনি। আমরা এর বিচার চাই।’
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শামিম হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।