স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর এবং তার স্ত্রী ও মেয়েকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত রবিবার (১২ জুলাই) রাতে আদালতের নির্দেশে যশোর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, যশোর শহরের বেজপাড়া পিয়ারিমোহন রোডের বাসিন্দা মৃত কাজী সদরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম সুমন এবং একই এলাকার মৃত আব্দুল বারীর ছেলে মামুন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে আইনজীবী কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের পরিবারের দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ৩০ জুন বিকেল ৫টার দিকে তিনি (তুহিন) আইনজীবী সমিতি কার্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে রেলগেট মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছালে আসামিরা তার গতিরোধ করে। সেখানে তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সেই সময় চাঁদার টাকা না দিলে তার স্ত্রী ও মেয়ের অপূরণীয় ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় এবং টাকা পরিশোধের জন্য সাত দিনের সময় বেঁধে দেয় আসামিরা।
পরবর্তী সময়ে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে গত ৬ জুলাই দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে আসামিরা লোহার রড নিয়ে আইনজীবী তুহিনের বেজপাড়ার বাসভবনে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা ঘরের দরজায় লাথি মারতে থাকে এবং তার স্ত্রী দরজা খোলামাত্রই ঘরে ঢুকে তুহিনকে খুঁজতে শুরু করে। ঘরে তাকে না পেয়ে আসামিরা তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয় এবং মারধর করে।
এই সময় তাদের মেয়ের ফোনে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে আসামিরা স্থান ত্যাগ করে। তবে চলে যাওয়ার আগে আগামী দুই দিনের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী আইনজীবী গত ৮ জুলাই যশোর আদালতে একটি অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনার আলোকেই কোতোয়ালি থানায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।