শফিকুল ইসলাম শফিক
, মাগুরা
টানা সাতদিনের ভারী বর্ষণে সড়ক ও বাসা বাড়িতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাগুরার জনজীবন। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে পানিতে। কোনো কোনো এলাকার সড়ক এবং সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের কলেজপাড়া, পিটিআই পাড়াসহ নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়াই ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমপাশের সড়কের ছোট্ট সেতুটি পানির প্রবল চাপে ভেঙে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে আশেপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচল ছিল। বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাচলে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এমনকি কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানায়, ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য সেতুটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি। অনেক যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এর উপর দিয়ে চলাচল করতো। টানা বৃষ্টিতে ব্রিজের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দ্রুত সেতুটি সংস্কার করে জনগণের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক। নইলে ভোগান্তি আরো বাড়তে পারে।
এছাড়াও মাগুরা সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা যেমন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কলেজপাড়া, আলামিন স্কুল সংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং ময়লা আবর্জনার কারণে ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে কলেজপাড়ায় বিভিন্ন কোচিং সেন্টার হওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী কোচিং করতে এই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় ড্রেনের মুখ খোলা থাকায় প্রায় সময় ড্রেনের মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থীদের জামা কাপড় নোংরা হয়ে যায়। তাছাড়া ভারী বর্ষণের কারণে সময়মতো কোনো যানবাহন না পাওয়ায় সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা অফিস আদালতে বা বিদ্যালয় যেতে পারছেন না।
এদিকে, সারা দেশে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা। সেই সাথে হাই স্কুলগুলোতে শুরু হয়েছে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। কিছু কিছু এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না অনেকেই। পরীক্ষার জন্য তবুও বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে পরীক্ষা দিতে।
এ ব্যাপারে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়াদ্দার জানান, টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একদিকে অতি বৃষ্টি অন্যদিকে জলবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পানি উঠে গেছে। এ অবস্থায় ঘর থেকেই বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। বিদ্যালয় এর প্রধান ফটকের সামনে পানি জমে থাকায় তাদের জুতা-মোজা অনেক সময় ভিজে যায়। এতে চুলকানিসহ নানা ধরনের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। আবার অনেক সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে কাপড়ও নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যে যানবাহন পাওয়া যায় না, তাই সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো যায় না।
ঘোড়ামারা এলাকার রিকশাচালক মতিয়ার মিয়া বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য রিকশা নিয়ে ঘর থেকে বের হতে পারি না। আবার কয়েকটি রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে রিকশা চালাতেও সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় কোনো লোকজন থাকে না, সেকারণে আয় রোজগারও কমেছে। এ অবস্থা আরো কিছুদিন থাকলে বউ বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।
শহরের সততা কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে মাগুরার বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘর রাস্তা, মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। সেজন্যে শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর যেগুলো আছে, রাস্তায় পানি কাদার জন্য সেগুলো আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারে সবজির পরিমাণ খুবই কম।
মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান বারী বলেন, শহরে পানি জমার প্রধান কারণ হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাসা বাড়ির ময়লা প্রতিনিয়ত পলিথিনে করে ড্রেনের মধ্যে ফেলা হয়। এই ময়লার কারণে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আগে সাধারণ জনগণকেই সচেতন হতে হবে।