ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়ার প্রধান সড়কের কয়েক জায়গায় ধস নেমেছে। টানা বর্ষণে প্রতিদিনই সড়কের নতুন নতুন অংশ ভেঙে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবিতে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার মাছকাটা এলাকা সংলগ্ন শিবসা সেতুর নিচ থেকে (ছয় নম্বর ওয়ার্ডের শেষ সীমানা) শাপলা ক্লাব পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ ও ভয়াবহ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও দশ ফুট প্রশস্ত সড়কের দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত অংশ ভেঙে গেছে।

ধসে পড়া অংশের পাশে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক ব্যারিকেড বা নিরাপত্তা চিহ্ন কিংবা ব্যবস্থা না থাকায় দিন-রাত ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন যানবাহনের চালক ও পথচারীরা।
ভারি যানবাহন চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ছয় থেকে সাত বছর আগে পাইকগাছা পৌরসভার উদ্যোগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিলো। তবে গত দু-তিন বছর ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ক্ষয় ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ এবং মাটির ক্ষয়ের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুত সংস্কার করা না হলে সড়কটির আরও বড় অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। লতা ও দেলুটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পাশাপাশি হাড়িয়াআবাদ আশ্রয়ন প্রকল্পের শত শত পরিবার এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, মৎস্যঘের মালিক, মাছ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের প্রধান পথ এটি। ফলে সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

পূর্বপাড়া জামে মসজিদের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রেসক্লাব পাইকগাছার সাধারণ সম্পাদক এম. জালাল উদ্দীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী জানান, সড়কের ধসে যাওয়া অংশগুলো দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে অব্যাহত ধসে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের স্থায়িত্বও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খানাখন্দ ও ধস এর স্থানগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।