স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
কিউবা বিপ্লবের মহান নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর শততম জন্মদিনের আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, বিপ্লবী সংগ্রামের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ফিদেলের নেতৃত্বাধীন কিউবার বিপ্লব ক্রমে সমাজতান্ত্রিক চরিত্র গ্রহণ করে। পরবর্তীতে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক ধারার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিউনিস্ট বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর শততম জন্মদিন উপলক্ষে বিবর্তন যশোরের মঞ্চে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, ফিদেল কাস্ত্রো শুধু কিউবার একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না; তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আন্তর্জাতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতীক। তার নেতৃত্বে কিউবার বিপ্লব লাতিন আমেরিকাসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু মুক্তি ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে।
সভায় ফিদেল কাস্ত্রোর রাজনৈতিক জীবন, কিউবার বিপ্লব, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন মফিজুর রহমান রুননু, অধ্যাপক ইসরারুল হক, আহসান উল্লাহ ময়না, শামীম বিশ্বাস ও লেখক কাইয়ুম শিকদার।
হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে ও মুস্তাফিজুর রহমান কবিরের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, ফিদেল কাস্ত্রোর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসেবে নয়; বরং কিউবার স্বৈরশাসন, বৈষম্য, বিদেশি আধিপত্য ও জনগণের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক বিকাশ ঘটে। ১৯৫৩ সালের মনকাডা ব্যারাক আক্রমণ, কারাবরণ, মেক্সিকোতে নির্বাসন, ১৯৫৬ সালে গ্রানমা নৌযানে করে কিউবায় প্রত্যাবর্তন এবং সিয়েরা মায়েস্ত্রায় গেরিলা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বিপ্লবী আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসেন।
আলোচনায় বক্তারা ফিদেল কাস্ত্রোর বিখ্যাত আত্মজিজ্ঞাসামূলক বক্তব্য ‘কীভাবে আমি কমিউনিস্ট হলাম’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ফিদেলের নিজের ভাষায় ‘জীবনই আমাকে তৈরি করেছে আরও বিপ্লবী, আরও সমাজতান্ত্রিক, আরও কমিউনিস্ট।’
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৫৯ সালের কিউবা বিপ্লবের বিজয়ের পর ভূমি সংস্কার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জাতীয়করণ ও সামাজিক বৈষম্য কমানোর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কিউবা নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ ও সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফিদেল কাস্ত্রো দৃঢ় অবস্থান নেন।
সভায় ফিদেল কাস্ত্রোর শততম জন্মদিনে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়- ‘ফিদেল গতকালের, আজকের এবং চিরদিনের। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে ফিদেল কাস্ত্রো একটি দীর্ঘস্থায়ী বিপ্লবী স্মৃতি।’