স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার রূপসা উপজেলার আলাইপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান রতন মণ্ডলের বিরুদ্ধে জাল সনদ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও তিনি এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়।
আলাইপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান রতন মণ্ডল জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি ও এমপিওভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় রতন মণ্ডল কৌশলে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিঠিতে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান রতন মণ্ডলকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ স্বশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৭ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। তদন্তে সহযোগিতার জন্য অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে আনতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ ওঠার পরও রতন মণ্ডল এখনো আলাইপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে বহাল রয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাল সনদ, এমপিওভুক্তি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী লাইব্রেরিয়ান রতন মণ্ডলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।