যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

পাইকগাছায় ‘সবুজ মাংস’ রহস্যের অবসান, মিললো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা!

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ৩১ আগস্ট,২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
আপডেট : সোমবার, ৩১ আগস্ট,২০২৬, ০২:২১ পিএম
পাইকগাছায় ‘সবুজ মাংস’ রহস্যের অবসান, মিললো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা!

রান্না করার পর গরুর মাংসের রং গাঢ় সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় মাংসে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ফরমালিন বা কৃত্রিম রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণ ও রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণেই রং সবুজ হয়েছে বলে পরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২২ জুলাই সকালে পাইকগাছা পৌর বাজারের কসাই ইসমাইল গাজীর দোকান থেকে মডার্ন বেকারির কয়েকজন কর্মচারী প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনেন। এর দাম ছিল ২ হাজার ৭৫০ টাকা। বেকারির ১৪-১৫ জন কর্মচারীর পিকনিক উপলক্ষে মাংসটি রান্না করা হচ্ছিল।

রান্নার সময় মশলা কষানোর পর কড়াইতে মাংস দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই টুকরোগুলো গাঢ় সবুজ হয়ে যায়। তবে মশলা ও ঝোলের রং স্বাভাবিক ছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আতঙ্ক দেখা দেয়।

এ ঘটনায় বেকারির কর্মচারীরা কসাইয়ের বিরুদ্ধে বাসি বা ফরমালিনযুক্ত মাংস বিক্রির অভিযোগ করেন। অন্যদিকে কসাই ইসমাইল গাজী দাবি করেন, অসতর্কতায় কোনো রাসায়নিক পদার্থ মাংসে মিশে যাওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে পুলিশ ও উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মণ্ডল ঘটনাস্থলে গিয়ে রান্না করা মাংস এবং বিক্রেতার ফ্রিজে থাকা কাঁচা মাংস জব্দ করেন। নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।

গত ২৭ আগস্ট পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নমুনায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা রঞ্জক উৎপাদনকারী Pseudomonas ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। মাংসে পচনজনিত দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবেরও কোনো লক্ষণ ছিল না। ফরমালিন বা বাহ্যিক কোনো কৃত্রিম রাসায়নিকের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণের পর রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটে। এর ফলেই মাংসের রং সবুজ হয়ে যায়।

উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মণ্ডল বলেন, ‘ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মাংসের রং পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক কারণ স্পষ্ট হয়েছে। পরীক্ষায় ফরমালিন, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা কৃত্রিম রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)