পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
পাইকগাছায় বিএনপির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন।
ছবি:
খুলনার পাইকগাছায় জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের সুলতান মোড়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রদীপ কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শান্ত কুমার মণ্ডল, কৃষ্ণ মণ্ডল, প্রণব মণ্ডল, সেলিম বিশ্বাস, শিবপদ মণ্ডল, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও ঊষা রানি মণ্ডল।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গড়ইখালীর কুমখালী মৌজায় প্রায় দশ বিঘা জমি নিয়ে স্থানীয় প্রশান্ত মণ্ডল ও প্রদীপ মণ্ডলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে গত ২৮ আগস্ট উপজেলা বিএনপির নেতাদের সমন্বয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ হয়। সেখানে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রদীপ মণ্ডলের দীর্ঘদিনের দখল বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও জানান, পরদিন ২৯ আগস্ট প্রদীপ মণ্ডলসহ কয়েকজন ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দেন। বিষয়টি উপজেলা বিএনপি নেতাদের জানানো হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা উবাইদুল্লাহ সরদার ও রানা ঘটনাস্থলে যান।
তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে কয়েকজন নারী উত্তেজিত হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন এবং ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। ওই সময় উবাইদুল্লাহ সরদার ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন এবং দুটি ফোন নিয়ে নেন। পরে ভিডিও মুছে দিয়ে ফোন দুটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া হয় বলে বক্তারা জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরদিন স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে উভয় পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে বসার কথা ছিল। তবে ৩০ আগস্ট সকালে প্রশান্ত মণ্ডলের লোকজন ক্যাম্পে বসবেন না বলে জানান। পরে তারা উবাইদুল্লাহ সরদার ও রানার বিরুদ্ধে নারীদের শ্লীলতাহানি এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুষারকান্তি মণ্ডল জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। সেখানে প্রদীপ মণ্ডলের পক্ষে রায় যায়।
স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত করি। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে ক্যাম্পে বসে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা ক্যাম্পে না আসায় বসা সম্ভব হয়নি।’
জমি নিয়ে বিরোধ এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে প্রশান্ত মণ্ডলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।