যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে হাজতির সন্তান প্রসব

সৈয়দ মোস্তফা হাসমী

, যশোর

প্রকাশ : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:০২ পিএম
অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে হাজতির সন্তান প্রসব

অসুস্থতার কারণে ঝিনাইদহ কারাগার থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল হত্যা মামলার আসামি অন্তঃসত্ত্বা বৃষ্টি খাতুনকে (১৯)।

কিন্তু শুক্রবার রাতে পথিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই তিনি প্রসব করেন একটি পুত্রসন্তান। এরপর তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ কারাগারে বন্দী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা বৃষ্টি খাতুন। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঝিনাইদহ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা নিয়ে যাওয়ার পথে যশোর সদরের চুড়ামনকাটি এলাকায় পৌঁছুলে রাত ৯টার দিকে শুরু হয় তার প্রসব বেদনা। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই ফুটফুটে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ওই হাজতি। কিন্তু প্রসবের পরপরই মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে চালক দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং তাকে প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করান।

অ্যাম্বুলেন্সে হাজতির সন্তান প্রসবের এই খবর পৌঁছায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদের কাছে।

খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত বাজার থেকে সদ্যোজাত শিশুর জন্য নতুন জামাকাপড়, ডায়াপার, প্রসূতির জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং টাটকা ফুল কিনে হাসপাতালে যান। চিকিৎসাধীন মা ও নবজাতককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে প্রসূতির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানান তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার দৌলতপুর পালপাড়ার রবিউল ইসলামের মেয়ে বৃষ্টি খাতুন (হাজতি নম্বর-৩৮০/২৬) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের থাকাকালে তার প্রসববেদনা শুরু হয়। চলন্ত গাড়ির ভেতরেই তিনি একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ দেখা দিলে রাত ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. নিলুফার ইয়াসমিন জানান, ‘বৃষ্টি খাতুন ও তার নবজাতক পুত্র সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। বিকেলে তাদের কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন একজন হাজতি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সংবাদ পেয়ে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। একই সাথে গাইনি চিকিৎসকদের খবর দেন তত্ত্বাবধায়ক। দ্রুত ও উন্নত সেবার কারণে মা ও শিশু দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন।

এদিকে, প্রসূতি ও শিশুর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় শনিবার বিকেলে তাদের যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘কারা হাসপাতালে’ স্থানান্তর করা হয়।

কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, প্রসূতি ও সদ্যোজাত শিশুর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাদের কারা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রসূতির হার্টের রোগ রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। সেখানে প্রিজন সেল রয়েছে। এখান থেকে সুস্থ হলে তাকে খুলনায় পাঠানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু ওই নারী হাজতি এবং তার নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত সেকারণে তাকে আপাতত যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালে রাখা হচ্ছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)