লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সাংবাদিক কাজী আশরাফকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানিয়েছেন স্বজন, এলাকাবাসী ও সহকর্মীরা।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক কাজী আশরাফের নামাজে জানাজা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভার আল মারকাজুল মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে লক্ষ্মীপাশা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কাজী আশরাফ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপীনাথপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কাজী শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি দৈনিক করতোয়া ও দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকার লোহাগড়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।
স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে , রোববার সকালে কাজী আশরাফ ও মাহমুদুল হাসান অনিক ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেলে করে লোহাগড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে দোলা পরিবহনের বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে কাজী আশরাফ গুরুতর আহত হন। তার সঙ্গে থাকা মাহমুদুল হাসান অনিক সামান্য আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আশরাফের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান। ওই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সড়ক পথে তার মরদেহ লোহাগড়ার গোপীনাথপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, এলাকাবাসী ও সহকর্মীদের কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সহকর্মীরা বলেন, কাজী আশরাফ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি শুধু একজন সংবাদকর্মী ছিলেন না, নড়াইলের সাংবাদিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ও সহকর্মীদের আপনজন ছিলেন।
এদিকে অকাল প্রয়াত সাংবাদিক কাজী আশরাফের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আগামী বুধবার লোহাগড়া প্রেসক্লাবের আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব শিমুল হাসান জানিয়েছেন।