স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
দশম শ্রেণির ছাত্রী শিপ্রা ঘোষকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি তার সহপাঠীদের। মঙ্গলবার ভাতুড়িয়া হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিপ্রা ‘হত্যার’ বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন দুই স্থানে।
মানববন্ধন চলাকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে চাঁচড়া শ্রীশ্রীদশমহাবিদ্যা ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দ দাস, অর্জুন কৃষ্ণ দাস, পার্থ কৃষ্ণ দাস, পবিত্র দাস, সঞ্জয়, সাধন অধিকারী ও পাপিয়া অধিকারীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযুক্ত অপার গোবিন্দ দাসের ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার সকালে ভাতুড়িয়া হাইস্কুল ও কলেজের সামনে পুলেরহাট-মণিরামপুরে সড়কে এবং দুপুরে শহরের মুজিব সড়কে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মন্দিরের অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দের প্ররোচনায় শিপ্রা ঘোষ আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। অপার গোবিন্দ সম্প্রতি তার মায়ের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন। এ ঘটনায় শিপ্রা প্রতিবাদ করায় শিপ্রাকে চরমভাবে অপমান করেন অধ্যক্ষ। ঘরের মধ্যে বন্দী করে শারীরিক নির্যাতনও চালান। এই অপমান সহ্য না করতে পেরে গত শনিবার শিপ্রা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে অত্মহননের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়।
বক্তারা বলেন, শিপ্রা ভাতুড়িয়া হাইস্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী। লেখাপড়া, আচার-ব্যবহারে একজন ভালো ছাত্রী হিসেবে সবাই জানতো। তার মতো মেধাবী ছাত্রী কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। অপার গোবিন্দ কর্তৃক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারেই সে এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।
বক্তারা শিপ্রার আত্মহত্যার জন্য অধ্যক্ষ অপার গোবিন্দকে দায়ী করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভাতুড়িয়া হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান, সহকারী প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান, সিনিয়র শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও চায়না খাতুন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন অর রশিদ ও শিপ্রার ভাই পাপন ঘোষ।