খুলনা অফিস
খুলনায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ষষ্ঠ বার্ষিক উপকূলীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় অভিযোজনের অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
একইসঙ্গে জলবায়ু পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশুদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) ও উপকূলীয় জলবায়ু শিশু ফোরামের (কেএনএইচ) উদ্যোগে এ সম্মেলন শুরু হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় মানুষের দুর্ভোগ নতুন নয়। গত ৩০-৪০ বছর ধরে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য দুর্যোগের পর একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় অনেক সাইক্লোন সেন্টার দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য সুবিধার অভাবে দুর্যোগের সময় এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও আস্থাও বাড়াতে হবে।
শিশুদের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুরা এখন শুধু সমস্যার কথা বলতে চায় না, তারা সমাধানের অংশীদার হতে চায়। তাদের পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতাকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় শুধু সেমিনার বা আলোচনা নয়, এসব সুপারিশ রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সম্মেলনে উপকূলীয় এলাকার শিশু, শিক্ষাবিদ, পরিবেশকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
দুই দিনের সম্মেলনে ডিজিটাল স্টোরিটেলিং, পোস্টার উপস্থাপনা, শিশুদের নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রম, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের শিশুদের জীবনে জলবায়ু সংকটের প্রভাব, জলবায়ু অর্থায়নে শিশু ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার এবং জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেজেএসের নির্বাহী পরিচালক এটিএম জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ফজলুল হক, ডিজাস্টার ফোরামের সদস্য সচিব গওহর নঈম ওয়ারা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি কাওসার হোসেন এবং খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে।