লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া থেকে এগারনলী সড়ক নির্মাণে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বাধা দেওয়ার অভিযোগ মিলেছে।
সেকারণে সড়কটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় মসজিদ এবং বাজারে যাতায়াতকারী মুসল্লিসহ এলাকার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে পড়েছেন।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া জামে মসজিদের সামনের সড়ক দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার তেঁতুলবাড়িয়া এগারনলী হয়ে লাহুড়িয়ার কালিগঞ্জ হাট-বাজারে যাতায়াত করে আসছেন।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটির কার্পেটিং করার সময় কাজটি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রভাবশালী মো. বাবু শেখ।
তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের কাদের কাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায় ৩০- ৩৫ বছর ধরে বিনা বাধায় তেঁতুলবাড়িয়া থেকে এগারনলী সড়ক দিয়ে আমরা চলাচল করছি। এখন ওই সড়কটি স্থানীয় প্রভাবশালী বাবু শেখ ব্যক্তি মালিকানা দাবি করে সড়কটি পাকাকরণে বাধা দিচ্ছেন। সেকারণে হাট-বাজারসহ মসজিদেও যেতে পারছি না।’
স্থানীয় বাসিন্দা মশিয়ার মোল্যা, সাদ্দাম হোসেন ও মফিজার মোল্যা বলেন, ‘কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করে আসছিলাম। অপেক্ষা শেষে যখন কাজ শুরু হলো, তখনই ওই সড়কটি নিজেদের দাবি করে সড়ক উন্নয়নের কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
নতুন করে এই সড়কের জন্য ইতিমধ্যে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আব্দুল কাদের কাজী তার সাড়ে চার শতাংশ জমির মধ্যে দেড় শতাংশ রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। সুমন মোল্লা ৫ শতাংশ, মনির হোসেন ২ শতাংশ, আবুল হাসান কাজী ২ শতাংশ ও আক্কাস মোল্লা তার নিজস্ব জমি থেকে ১৬ শতাংশ জমি সড়ক নির্মাণের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাবু শেখের সঙ্গে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার নিজস্ব সম্পত্তিতে পায়ে হাঁটা পথ ছিল। প্রয়োজনের তাগিদে পথটি এখন প্রশস্ত হয়ে ভ্যানসহ অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচল করছে। দীর্ঘদিন জনগণের জন্য সড়কে চলাচল করতে দিয়েছি। এখন আমার জমির ওপর দিয়ে চলাচল করতে দেবো না। সরকার রাস্তার জায়গা বের করে তৈরি দিক।’
এই প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেবক মন্ডল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই; চলাচলের পথরোধ কারোরই উচিত নয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সড়কের কাজ কেন বন্ধ করা হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।