স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের একাদশ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র, সমাজ ও সংগঠন গড়ে তুলি এবং নারীর মানবাধিকার রক্ষায় অভিন্ন পারিবারিক আইনের প্রস্তাবনা চালু করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শহরের ‘বাঁচতে শেখা’ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলন উপলক্ষে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উদ্বোধনী অধিবেশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন যশোর জেলা কমিটির সভাপতি আফরোজা শিরীন।
জেলা কমিটির সহসভাপতি রোজিনা রহমানের পরিচালনায় এ সময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
একাদশ জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আফরোজা শিরীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ সম্পাদক রুমা পারভীন। এরপর মহিলা পরিষদের প্রয়াত নেত্রীদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান রোজি।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট রবিউল আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম এবং প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও যশোর জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাবিবা শেফা, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, বাঁচতে শেখার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গমেজ, উলাসী সৃজনী সংঘের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আজিজুল হক মনি, সাংবাদিক ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, কাজী খালেদ, সিপিবির জেলা সভাপতি ও প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহিনা আক্তার সুবর্ণা, তৃণমূল নারী নেত্রী তৃপ্তিরানি বৈরাগী এবং আদিবাসী নারী নেত্রী সোমা সরকার।
সম্মেলনে তৃণমূল ও জেলা পর্যায়ের নেতাসহ মোট ১৩০ জন কাউন্সিলর অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধিবেশন যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনা ও ভারপ্রাপ্ত সহসাধারণ সম্পাদক তাহমিনা সুলতানা কাকলি।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম বলেন, আদর্শ, গঠনতন্ত্র ও ঘোষণা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সরকারের নীতি নির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়ে তিনি ১৫০টি আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
দ্বিতীয় অধিবেশনে সংগঠনের বিগত দিনের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক, অর্থ, আন্দোলন, লিগ্যাল এইড, প্রশিক্ষণ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ, প্রচার-প্রকাশনা এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি উপপরিষদের প্রতিবেদন পেশ করা হয়।
সবশেষে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সর্বসম্মতিক্রমে অ্যাডভোকেট আফরোজা বেগমকে সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা পরিষদ যশোরের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন ত্রিবার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়।
নবগঠিত কমিটির অন্য কর্মকর্তারা হলেন—সহসভাপতি রোজিনা রহমান, হামিদা বেগম, নাসিমা বানু লিলি, সুলতানা রহমান রজি, বীথিকা সরকার, রেহেনা বেগম ও মনিরা বেগম; সহসাধারণ সম্পাদক তাহমিনা সুলতানা কাকলি, সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে মাকসুদা মাসু, অর্থ সম্পাদক আমেনা বেগম কাকলি, আন্দোলন সম্পাদক সুফিয়া বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানিয়া আক্তার রজি, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সায়েদা বানু শিল্পী, পরিবেশ সম্পাদক উম্মে কুলসুম আলো, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুলতানা পারভীন, প্রচার-প্রকাশনা ও গণমাধ্যম সম্পাদক রুমা পারভীন এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক নাসরিন নাহার আশা।
কমিটির সদস্যরা হলেন—হাবিবা শেফা, আফরোজা শিরীন, খুরশিদা জাহান খান, শায়লা নার্গিস, তৃপ্তি রানি বৈরাগী, রুবিনা পারভীন, মনোয়ারা বেগম, জ্যোৎস্না রানি ঘোষ, সুমা বড়াল, সানজিদা সুমি, সামিরা বেগম ও নাজমা আক্তার শোভা। নতুন কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম।