ছাকিন হোসেন
, যশোর
যশোর উপশহরের ই-ব্লকে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যাচ্ছে সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও মিলছে না কোনো কার্যকর সমাধান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় উপশহর ই-ব্লক এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকে। এতে প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেককে ঘর থেকে বের হতে হাঁটুসমান নোংরা পানির ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতায় পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্কুলশিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলে, জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল এবং খেলাধুলাও ব্যাহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছেন তারা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চলাচল করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
গৃহবধূ রেহানা বেগম বলেন, জমে থাকা নোংরা পানির দুর্গন্ধে বাসাবাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এই অবস্থার স্থায়ী সমাধান চান।
উপশহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঈন উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানির দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকী এই পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করায় ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি অনেকটা কমে গেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপশহর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসান জহির বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। মৌখিকভাবে তো আমরা বলেছি, লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। কয়েকবার মানববন্ধন করেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। আমাদের এই সমস্যার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরে নেই দাবির কিছুই পূরণ হয়নি।’
এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিক আহাম্মেদ সাকিবের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। পরে তার মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।