শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেঁকী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার পাশে পুরোনো একটি সরকারি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রকাশ্য দিনের বেলায় গাছ কাটলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরেজমিন নওয়াবেঁকী কলবাড়ি সড়কের নওয়াবেঁকী বড় কূপট মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, প্রায় ২০ বছরের পুরোনো একটি বড় বটগাছ কেটে ফেলছেন তিনজন শ্রমিক। স্থানীয়দের দাবি, সুকান্ত নামের এক ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে ধাপে ধাপে গাছটি কাটছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রথমদিকে বিষয়টি স্থানীয় তহশিল অফিস ও সামাজিক বন বিভাগকে জানানো হলেও তাঁরা এটি নিজেদের দপ্তরের আওতাভুক্ত নয় বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান। ফলে কোনো বাধা ছাড়াই গাছ কাটার কাজ চলতে থাকে।
পরে এলাকাবাসী বিষয়টি আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোশাররফ হোসেনকে অবহিত করেন। তিনি ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠান। গ্রাম পুলিশ গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুজ্জামান বলেন, সরকারি গাছ রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এসব গাছ পরিবেশ রক্ষা ও সড়ক টিকিয়ে রাখতেও ভূমিকা রাখে। অথচ প্রকাশ্যে গাছ কেটে নেওয়া হলেও প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। আরেক বাসিন্দা আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মধ্যে বড় গাছগুলো মানুষের জন্য প্রাকৃতিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। সেখানে সরকারি গাছ কেটে ফেলার ঘটনা উদ্বেগজনক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।
ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়। তারা ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আটুলিয়া ইউনিয়নের তহশিলদার প্রতুল জোয়ারদ্দার এবং সামাজিক বন বিভাগের শ্যামনগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জার আওছাফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বিষয়টি অন্য দপ্তরের বলে জানান।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী রফিউজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।