চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় রানি খাতুন (২২) নামে এক তরুণী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরে তার সিঙ্গাপুর প্রবাসী দ্বিতীয় স্বামী লিজন রেজা পালিয়ে গেছেন।
শুক্রবার (২২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌগাছা উপজেলা পরিষদের সামনের একটি দোতলা ভবনে এই ঘটনা ঘটে।
রানি চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের মসিয়ূরনগর গ্রামের মো. মোস্তফার মেয়ে। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার টঙ্গী গ্রামের সদর আলীর ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী লিজন রেজাকে বিয়ে করে চৌগাছা উপজেলা পরিষদের সামনের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। রানি ও লিজন উভয়ের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। লিজন প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে রানিকে বিয়ে করেন।
রানির মা আম্বিয়া খাতুন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা অবস্থায় বলেন, “বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামাই লিজন রেজা তার ০১৭৮৮-৯৩১৮৯৩ মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে বলে, 'আপনার মেয়ে খুব অসুস্থ, আমি তাকে যশোর নিয়ে যাচ্ছি। আপনি দ্রুত আসেন।’'
তিনি বলেন, ‘ফোন পেয়ে আমি দ্রুত এসে দেখি, তাদের ভাড়া বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ঘরের মেঝেতে মেয়েকে শোয়ানো রয়েছে। দরজা খোলা থাকলেও জামাইয়ের কোনো খোঁজ পাইনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
হাসপাতলের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহমিদা ইয়াসমিন জ্যোতি বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই রানির মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার ও প্রতিবেশিদের সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে রানির ছোট ভাই নয়ন হোসেনকে (১৮) বিদেশ পাঠানোর জন্য লিজন রেজা সাত লাখ টাকা নেন। টাকা দিয়েও ছোট ভাইকে বিদেশ পাঠাতে না পারায় রানি-লিজন দম্পতির মধ্যে ঝামেলা চলছিল। আজ সকালেও এ নিয়ে স্বামীর সাথে কথাকাটাকাটি হয় রানির।
চৌগাছা থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট করেছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতাল পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।
থানার উপ-পরিদর্শক জিএম রাজু বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলা যাচ্ছে না ঠিক কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনা ঘটার পর থেকে ভিকটিমের দ্বিতীয় স্বামী লিজন রেজা পলাতক রয়েছেন বলে তিনি জানান।
চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, এঘটনায় আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।