তিনদিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে যশোরে তিন দিনব্যাপী বই মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গনে এই বই মেলার উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি। এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষকে পাঠাগারমুখী করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে বইমুখি করতে চান প্রধানমন্ত্রী। সেকারণে তিনি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। কীভাবে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকেই বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করা যায়, সেই পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তক পড়ে এই পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব না। পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খেলাধুলা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। বিভিন্ন ভাষার উপর, দেশ-বিদেশের ইতিহাস সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর এই সকল কিছুর একমাত্র মাধ্যম হলো বই।
যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুপ্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্যে সম্পর্কে জেনেছেন, দুর্লভ সংগ্রহ সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বই মেলা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে এসব দুর্লভ বই দেখাতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বই পড়ার প্রতি নতুন প্রজন্মের ভেতরে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।
এই পাবলিক লাইব্রেরি উন্নয়নে সরকার ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু প্রমুখ।
প্রতিমন্ত্রী পরে অন্য অতিথিদের নিয়ে বই মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিনদিনব্যাপী এই বই মেলার চলবে ২৪ মে পর্যন্ত। আয়োজকরা জানান, উদ্বোধনের পর প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বই প্রদর্শনী ও বিক্রয় চলবে।
মেলায় কবিতা আবৃত্তি, বই পড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর যশোরের এই বইমেলাকে ঘিরে যশোরের কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। তীব্র গরমেও প্রথমদিনেই পাঠক ও বইপ্রেমী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।