স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর শহরের আরবপুর মোড়ে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলচেষ্টা, মিথ্যা মামলা এবং পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী একটি পরিবার।
এর আগে গত ২ জুন একই সম্পত্তি নিয়ে ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের মালিক বাবলু তালুকদার তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন।
শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সায়াদ হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে এবং এতে প্রশাসনের এক কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
লিখিত বক্তব্যে সায়াদ হোসেন বলেন, তার বাবা প্রয়াত আব্দুস সালাম সরদার (হবি সরদার) জীবদ্দশায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করেননি। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পরিবারের সদস্যরা যশোর কোতোয়ালি থানার ৯৩ নম্বর পুরাতন কসবা মৌজার আরএস ৬০৫৮ দাগের ১৬৪.৫০ শতক জমির মালিক হন। বর্তমানে ওই জমিতে বহুতল ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত বাবলু তালুকদার মূলত তাদের জমির একজন ভাড়াটিয়া। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তার বাবা বাবলু তালুকদারকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন বলেও পরিবারের কাছে জানিয়ে গেছেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর বাবলু তালুকদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিটির মালিকানা দাবি করে দখলের অপচেষ্টা শুরু করেন।
জানানো হয়, সম্পত্তি রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং পরবর্তীতে আপিল আদালতেও তাদের পক্ষে আদেশ আসে। বর্তমানে বিতর্কিত একটি দলিল বাতিলের দাবিতে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে দুটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সায়াদ হোসেনের অভিযোগ, গত ২৪ ও ২৬ মে পৈতৃক জমিতে প্রাচীর নির্মাণের সময় বাবলু তালুকদার ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নির্মাণকাজে বাধা ও ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
এ সময় তিনি কোতোয়ালি থানার এসআই সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পৈতৃক সম্পত্তির সুরক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভূমি বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্তে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২ জুন একই সম্পত্তি নিয়ে ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং’-য়ের মালিক বাবলু তালুকদার এই পক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, সায়াদ হোসেনের বাবার কাছ থেকে তিনি ৩৬ লাখ টাকা দিয়ে জমি কেনেন। তার পক্ষে সকল বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর সায়াদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ওই জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলে সায়াদসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করে, সম্প্রতি তারা জামিনে বের হয়েছেন।