যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

‘রিমু আত্মহত্যা করেনি, হত্যা করা হয়েছে, নেপথ্যে স্বামীর পরকীয়া’

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন,২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন,২০২৬, ১০:১৩ পিএম
‘রিমু আত্মহত্যা করেনি, হত্যা করা হয়েছে, নেপথ্যে স্বামীর পরকীয়া’

যশোরে সাবিয়া ইয়াসমিন রিমু (২০) নামের এক গৃহবধূর অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই অভিযোগ করেন রিমুর বাবা মো. শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ২,৫০,০০০ টাকা দেনমোহরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের শহিদুলের ছেলে শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদের সাথে রিমুর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরেই রিমু জানতে পারে তার স্বামী রিয়াদের সাথে আপন চাচি আসমাউল হুসনা কেয়ার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ ও রিমুর ওপর শারীরিক নির্যাতন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

বিবাদের একপর্যায়ে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার প্রায় তিন মাস আগে রিমু বাবার বাড়িতে চলে আসে। দীর্ঘ তিন মাস বাবার বাড়িতে থাকার পর দুই পরিবারের আপস মীমাংসায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় গত বুধবার (৩ জুন) তার মৃত্যু হয়।

শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটিকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও ঘটনার পেছনে গভীর রহস্য ও অসঙ্গতি রয়েছে। পরিবারের লোকজন গিয়ে রিমুর মরদেহ খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় পায়। প্রায় ৭০ কেজি ওজনের মানুষ ফ্যানে ঝুললে ফ্যানের পাখা বাঁকা হওয়ার কথা, কিন্তু ফ্যানের একটি পাখায় গামছা বাঁধা থাকলেও পাখাটি সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। রিমুর পিঠে, কোমরে, উরুতে আঘাতের চিহ্ন, ডান পায়ের তলায় রক্ত জমাটবাঁধা এবং গলায় চেইন বা শিকলসদৃশ বস্তু দ্বারা শ্বাসরোধের স্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিমুর বাবা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে স্বামী শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদ, শাশুড়ি রেহেনা সুলতানা, শ্বশুর শহিদুল ইসলাম এবং চাচি আসমাউল হুসনা কেয়া পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে। এমনকি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রভাবিত করার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করতে চাই না। একজন শোকাহত পিতা হিসেবে আমার একমাত্র দাবি, আমার মেয়ের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটিত হোক। কোনো প্রভাব, চাপ বা পক্ষপাতিত্ব যেন তদন্ত কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে।’

ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, ঘটনার দিন মেয়ের পিতা তার দলের নেতাদের নিয়ে থানায় আসেন। তারা লাশের ময়নাতদন্ত করতে বাধা প্রদানসহ করে মান সম্মানের দোহায় দিয়ে লাশ ফেরত চান। এমনকি বলেন - আমাদের কোন অভিযোগ নেই। রাত ১১টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত দেনদরবার করেও তাদের দিয়ে মামলা করাতে পারিনি। একপর্যায়ে পুলিশ জোর করে পোস্টমর্টেম করে ও অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে।

বিষয়টি নিহতের পিতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি নামাজ কালাম পড়ি, প্রথমে আত্মহত্যার কথা শুনে মামলা করতে চাইনি; তখন সন্তানহারা বাবার অনুভূতি কেমন থাকে। কিন্তু, মেয়েরা লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন, ঘরের ফ্যানে অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে বুঝেছি - এটি আত্মহত্যা নয়।

ঝিকরগাছা থানার ওসি লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি বলেন, সবকিছু সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আছে।


 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)