বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি গোয়ালঘরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ‘ডার্বি’ সিগারেট এবং সিগারেট তৈরির বিভিন্ন চোরাই যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।
মোরেলগঞ্জ পৌরসভার সানকিভাঙ্গা এলাকায় ‘ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ’ সংলগ্ন একটি স্থানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশ এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই তল্লাশিতে আনুমানিক ১০ লাখ শলাকা নকল ডার্বি সিগারেট জব্দ করা হয়। এছাড়া সিগারেট তৈরির কয়েক লাখ উপকরণ, প্যাকেটজাতকরণের সামগ্রী এবং কারখানার বেশ কিছু ভারী যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এই অভিযানের পেছনে দুটি ভিন্ন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্রীন বাংলা টোবাকো’র মালিক সোমনাথ দে দাবি করেছেন, গত বছরের আগস্ট মাসে তার ফ্যাক্টরি থেকে কয়েক কোটি টাকার মেশিন ও কাঁচামাল চুরি হয়ে যায়।
আদালতে মামলা করার পর আদালতের নির্দেশেই মূলত পুলিশ এই মালামাল উদ্ধারে অভিযান চালায়। উদ্ধারকৃত যন্ত্রাংশের মধ্যে তার চুরি যাওয়া মালামাল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর স্থানীয় প্রতিনিধি মাসুদ করিম টিটুর অভিযোগ, ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজে দীর্ঘদিন ধরে নামী ব্র্যান্ড ‘ডার্বি’র হুবহু নকল সিগারেট তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
অভিযানের সময় জব্দ হওয়া সিগারেটগুলো সেই অবৈধ সিন্ডিকেটেরই অংশ এবং পাশের গোয়ালঘরটিকে তারা চোরাই পণ্য মজুদের নিরাপদ গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছিল।
অভিযানকালে ক্রাউন টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক বদরুল আলম ভদ্দর কিংবা কোনো কর্মচারীকে সেখানে পাওয়া যায়নি, কারখানাটিও তালাবদ্ধ ছিল।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত সিগারেটগুলো প্রাথমিকভাবে নকল ডার্বি বলেই মনে হচ্ছে। তবে এর আসল উৎস এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই চলছে।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একটি নামী ব্র্যান্ডের নকল পণ্য উৎপাদন এবং একই সাথে চুরির মালামাল উদ্ধারের এই জোড়া ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।