মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কানুটিয়া এলাকায় ইয়াবা সেবনের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং কমপক্ষে দশজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (২১ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কানুটিয়া ও মৌশা গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে মো. লাকু শেখ, ইউনুস মোল্লা, মো. বাদশাহ শেখ, সিরাজুল ইসলাম শেখ, মো. নাজমুল বিশ্বাস, মো. সুজন কাজী, মো. শহিদুল ইসলাম শেখ ও মো. সাহেব আলী নামে আটজনকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কানুটিয়া এলাকার হাসান মোল্লার ছেলে আজম মৌশা এলাকায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে বাধা দেয় এবং মারধর করে। পরবর্তীতে আজমের ইয়াবা সেবনের ছবি ও তার বাবার মাদক ব্যবসা-সংক্রান্ত তথ্য ফেসবুকে পোস্ট করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে পরবর্তীতে মৌশা এলাকার রবিউল নামে এক যুবককে গাঁজাসহ পুলিশে ধরিয়ে দেয় কানুটিয়ার লিয়াকত নামে এক ব্যক্তি।
এই ঘটনার সূত্র ধরে রোববার বিকেলে কানুটিয়া বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে রাসেল ফকির, মিঠুন, বায়েজিদ হোসেন ও আবুল বাশার মুন্সিরসহ মোট ছয়টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় বায়েজিদের বাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হন। তাদের মাগুরা সদর হাসপাতাল ও মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মাদকসেবন ও সংঘর্ষের এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।