আসাদুজ্জামান সরদার
, সাতক্ষীরা
রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে চোখ যায় পাশে থাকা ব্রিজ এবং বাজারের পাশে স্কুলের পাঁচিলের দিকে। পুরো ব্রিজ নীল আর সাদা রঙ দিয়ে রাঙানো। দেখতে আর্জেন্টিনার পতাকার মতো। পাঁচিলের পাশেও পতাকার রং দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় টানানো হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা।
তবে, এটি মেসির দেশ নয়, তার ভক্তদের একটা গ্রাম। এই গ্রামের নাম হরিণখোলা। এটি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে অবস্থিত।
ফুটবল বিশ্বকাপ বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের কোটি ভক্তেরও এমন কিছু উন্মাদনা চোখে পড়ে। যেগুলোর দৃশ্য ফেসবুক পেজে দ্রুতগতিতে ঝড় তোলে।
তারই এক উদাহরণ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে হরিণখোলা গ্রামে। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ দল হিসেবে আর্জেন্টিনা ও খেলোয়াড় মেসিকে ভালোবাসেন। তবে, শুধু মেসিকে নয়- এই এলাকার মানুষ ব্রাজিল, ফ্রান্স ও জার্মানির টিমকেও ভালোবাসেন। দলের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই গ্রামের মানুষজন আর্জেন্টিনা দলের পতাকার সাথে মিলিয়ে রঙ করেছেন পুরো ব্রিজ ও দেয়াল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হরিণখোলা গ্রামের কিশোর-যুবক থেকে শুরু করে বয়স্করা পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমী। এই গ্রামের ৯০ শতাংশ মানুষ আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসেন এবং বাকি ১০ ভাগ অন্যান্য দলকে। এর মধ্যে দুই জার্মানিকে ভালোবাসে এবং পাঁচ শতাংশ ব্রাজিল, ফ্রান্সকে তিন শতাংশ।
তবে, এই গ্রামের বেশিরভাগ যুবক-যুবতিরা মেসিকে বেশি ভালোবাসেন। তাদের দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে গ্রামের মোড়ে মোড়ে টানানো হয়েছে আর্জেন্টিনা দলের পতাকা। আর্জেন্টিনা দলকে যারা বেশি ভালোবাসেন তারা হলেন- হিরা তরফদার, দেবেন সরকার, চয়ন সরকার, হরিস মন্ডল, হৃদয় সরকার, নবদ্বীপ সরকার, হিরন্ময় মন্ডল, ধৃতি মন্ডল। তাদের হাত খরচের টাকা দিয়ে নেওয়া হয় এই উদ্যোগ।
আর্জেন্টিনা সমর্থক ধৃতি মন্ডল বলেন, আর্জেন্টিনার মেসিকে ভালোবাসি। যখন অনেক ছোট তখন তার খেলা দেখছি। তখন থেকে তার দলকে আমরা সাপোর্ট করি। গত বিশ্বকাপে মেসি কাপ নিয়েছে। সেই জায়গা থেকে এই বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কয়েকজন বন্ধুরা মিলে এই আয়োজন করেছি। গ্রামবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ব্রিজ এবং স্কুলের দেয়ালের পাঁচিলে আর্জেন্টিনার পতাকার রং করেছি পুরো জায়গাজুড়ে। আমাদের গ্রামে সবাই আর্জেন্টিনার মেসির ভক্ত। সেই জায়গা থেকে গ্রামের সবাই এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে।
এদিকে, ব্রাজিলের সাপোর্টার মিঠুন বলেন, আমরা গুটি কয়েকজন ব্রাজিলের সাপোর্ট করি সেই প্রথম থেকে। তবে, আমাদের গ্রামের মেসির ভক্ত বেশি। তাই তারা সবাই মিলে এই আয়োজন করেছে। আমরা এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই।
জার্মানির সাপোর্টার মিহির সরকারও একই কথা বলেন। জার্মানি সাপোর্ট করলেও মনে প্রাণে মেসিকে ভালোবাসি। তাদের আয়োজনে আমিও ছিলাম।
গ্রামের বাসিন্দা অরবিন্দু সরকার, বিধান সরকার, রঞ্জন মন্ডল প্রমুখ বলেন, এই সময়টা এলে সবাই উচ্ছ্বাস নিয়েই এক জায়গায় বসে খেলা দেখি। তারা যখন এই উদ্যোগটা নেয়, তাতে সম্মতি দিয়েছিলাম। তারা আমাদের অনুপ্রেরণা পেয়ে সামনের দিকে এগিয়েছে।
হরিণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না রানী পাল বলেন, প্রথমে তাদের এই আয়োজনে বাধা দিয়েছিলাম। যেহেতু আমাদের প্রতিষ্ঠান সামাজিক। তারপর গ্রামের কিছু অভিভাবক এসে কথা বললে আমরা রাজি হই। তারা বলেছিলেন, যদি সমস্যা হয় তাহলে মুছে দিবেন। সেই জায়গা থেকে আমরা রাজি হয়েছি। যদিও আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার, মেসিকে ভালোবাসি।