সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে ঘিরে জেলার কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আলাউদ্দিন চত্বর এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ওলামা মাশায়েখ পরিষদ ও বাংলাদেশ মাজলিসুন মুফাসসিরীন নামের দুটি সংগঠনের ব্যানারে শতাধিক মুসল্লি এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী এবং সঞ্চালনা করেন রুস্তম আলী তাওহিদী। এতে বক্তব্য দেন মাওলানা ওসমান গনি, মুহাদ্দিস ওবায়দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, হাফেজ মাওলানা শাহাদাত হুসাইন, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আমিনুর রহমান, মাওলানা আফজাল হোসেন জিহাদী, মাওলানা তরিকুল ইসলাম জিহাদী ও হাফেজ আরিফুল ইসলাম আজাদী প্রমুখ।
মাওলানা আব্দুল বারী অভিযোগ করেন, সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা জেলার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি খেলার অনুষ্ঠানে কেন এমন মন্তব্য করলেন- তা বুঝতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরার চারজন সংসদ সদস্যই ইসলামপ্রিয় হওয়ার কারণেই কি তিনি এমন কথা বলেছেন? এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের নীতির আলোকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, ‘আমি সেই কথাই বলেছি। এর মধ্যে শান্তি-অশান্তির কোনো বিষয় নেই।’
এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বক্তব্যের আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বক্তব্যকে তার প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ভিন্নভাবে প্রচার করা দায়িত্বশীলতার পরিপন্থি।
জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং সবাইকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানায়।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন প্রেসক্লাব নেতারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটির এক সভায় তিনি নিজেই বলেছিলেন যে, অন্ধকারাচ্ছন্ন সাতক্ষীরা থেকে মুক্তি পেতে হলে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গন, যাত্রা, গান-বাজনাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বিকশিত করতে হবে। তার দাবি, ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সভাপতিত্ব করলেও সেখানে বিতর্কিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। একই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ডিসি বক্তব্য রেখেছিলেন।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও বলেন, অতীতে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সাতক্ষীরার রাজনৈতিক পরিবেশকে ভিন্নমুখী করার চেষ্টা করেছে। বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ক্রীড়া সংস্থার ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসি। সেখানে তিনি অনুরূপ কথা বলেন। এতে বিতর্কের মতো কিছু হয়নি।
বিএনপি নেতা হাবিব বলেন, সাতক্ষীরায় অতীতের জেলা প্রশাসক ও কেবিনেট সেক্রেটারির সহায়তায় ভোট কেটে সাতক্ষীরায় এমপি জিতিয়েছেন। তারা সাতক্ষীরাকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চান। তারা পরিবেশ ঘোলা করছে। জামায়াত এসব চাইলেই হবে না, সরকারে বিএনপি।