মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় অসহায় ও ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধার লাখ টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কর্মচারীরা ‘ভাগবাটোয়ারা’ করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন ওই বৃদ্ধা ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সে সময় ইউএনও অফিসে না থাকায় তিনি তার ছেলের ঘরের গেট নির্মাণ ও একটি ফুটো মেরামতের জন্য টাকাটি ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম এবং স্টাফ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জমা দেন।
উপজেলা পরিষদের গেটের ভেতরের এক অংশে চৌকি পেতে অন্য একজন পুরুষ ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে রাত্রী যাপন করতে দেখা যায়। ভারসাম্যহীন ওই বৃদ্ধা নারীর দাবি করেন, ওই পুরুষ তার ছেলে এবং পরিষদের গেটের ওই অংশে আরোও একটি গেট স্থাপনের জন্য এক লাখ টাকা নিয়ে হাজির হন ইউএনও অফিসে। অফিসের কর্মচারীরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এই কাজের জন্য কোনও টাকা লাগে না। কিন্তু বৃদ্ধা নাছোড়বান্দা হয়ে টাকাটি সেখানে রেখেই চলে যান।
অভিযোগ রয়েছে, বৃদ্ধা চলে যাওয়ার পর ওই টাকা আর তাকে ফেরত দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় এক ব্যক্তি টাকাটির খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারেন, টাকাটি ইতিমধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে ‘ভাগবাটোয়ারা’ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে মোবাইলফোনে মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের সদস্য সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন, ইউএনও অফিস থেকে আমাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি, জাহিদের কাছেই টাকা রয়েছে।
এদিকে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, টাকাটা কার কাছে আছে তা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। সকালে অফিসে আসেন, বিস্তারিত জানানো যাবে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি আমলে নেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ১০ জুন একজন বৃদ্ধা আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। পরে জানতে পারি তিনি আমার স্টাফদের কাছে এক লাখ টাকা রেখে গেছেন। তাৎক্ষণিক ইউপি সদস্য সিরাজ সাহেব এবং স্টাফ জাহিদকে নির্দেশ দিয়েছিলাম টাকাটা ওই বৃদ্ধাকে ফেরত দিয়ে আসতে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পেরেছি, টাকাটি উনার কাছে পৌঁছায়নি।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই ঘটনার সাথে আমার অফিসের বা বাইরের কেউ যদি জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।