যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদানকারী দুই আনসার সদস্যকে মুজিবনগরে সম্মাননা

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন,২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ জুন,২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদানকারী দুই আনসার সদস্যকে মুজিবনগরে সম্মাননা

মেহেরপুর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে মুজিবনগরে একটি ব্যতিক্রমধর্মী দ্বৈত আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে একদিকে যেমন নবগঠিত 'সঞ্জীবন প্লাটুন' এর লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার প্রদানকারী জীবিত দুই আনসার সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় মুজিবনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিমুদ্দিন শেখ ও সিরাজুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে তাদের দেওয়া গার্ড অব অনার জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট আল-আমিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্নে আনসার বাহিনীর সদস্যরা যে সাহস, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের এই অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই আজকের এই সম্মাননা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খুলনা রেঞ্জ কমান্ডার আব্দুস সামাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই বীর সদস্যদের, যারা মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন। তাদের সাহসিকতা ও দেশপ্রেম স্বাধীনতার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছিল। আনসার বাহিনীর ইতিহাসে এটি এক অনন্য গৌরবের অধ্যায়। এই সম্মাননা শুধু একটি স্মারক নয়, বরং তাঁদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে দেশসেবায় আত্মনিয়োগের এক নতুন অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের আনসার সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘সঞ্জীবন প্লাটুন গঠন, প্রকল্প নির্বাচন ও সদস্য-সদস্যাদের করণীয়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সঞ্জীবন প্লাটুনের মূল লক্ষ্য, কর্মপরিধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথি আব্দুস সামাদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সঞ্জীবন প্লাটুন' গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনসংখ্যার চাপ, সীমিত কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক বাস্তবতার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনসার ও ভিডিপির বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ, সংগঠিত ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা। বাহিনীর শৃঙ্খলা, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা এবং দ্রুত সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা দেশের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ স্বেচ্ছাসেবী সদস্য দেশের বৃহত্তম সংগঠিত জনশক্তির প্রতিনিধিত্ব করছে। বাহিনীর কার্যক্রম এখন আর শুধু নিরাপত্তামূলক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ বিশাল জনশক্তিকে কাজে লাগানো গেলে এটি একটি কার্যকর ও টেকসই কমিউনিটি-ভিত্তিক উন্নয়ন মডেলে পরিণত হবে।

মুজিবনগর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানার সুনিপুণ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহ ৯ আনসার ব্যাটালিয়নের পিভিএমএস সাজ্জাদ মাহমুদ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক গাংনী শাখার প্রতিনিধিবৃন্দ, সদর ও গাংনী উপজেলার আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইউনিয়ন দলনেতা-দলনেত্রী, আনসার কমান্ডার এবং বিপুল সংখ্যক সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)