স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
‘হ্যালোটক’ অ্যাপে পরিচয় হয় যশোরের তন্দ্রা খাতুনের (২৯) সঙ্গে চীনা যুবক লি বিংয়ের (৪১)। এরপর ‘উইচ্যাট’-এ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্কের গভীরতা। তারপর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এই প্রেমিক জুটি।
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে ১৮ জুন বাংলাদেশে আসেন চীনা যুবক লি বিং। পরদিন সন্ধ্যায় যুবক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম হয়েছে মোহাম্মদ তাওহিদ। এরপর তন্দ্রার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার মেয়ে, আর চীনের রাজধানী বেইজিং উত্তরের বাসিন্দা লি বিং ওরফে মোহাম্মদ তাওহিদ।
এদিকে, এই বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে চাইনিজ জামাইকে এক নজর দেখতে তন্দ্রাদের বাড়িতে ভিড় করছে আশপাশের কৌতূহলী মানুষ।
যশোর সদর উপজেলার তথ্যকেন্দ্রে কাজ করতেন তন্দ্রা খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় আট মাস আগে ‘হ্যালোটক’ অ্যাপের মাধ্যমে লি বিংয়ের সঙ্গে পরিচয়। পরে ‘উইচ্যাট’-এ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। একপর্যায়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত।
তন্দ্রা বলছেন, তার টানেই চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন লি বিং। গত ১৮ জুন বাংলাদেশে আসে। পরদিন সন্ধ্যায় যশোর জজ কোর্টে ইসলামী রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, তার বর্তমান নাম মোহাম্মদ তাওহিদ। আগে তিনি কোনো ধর্ম পালন করতেন না। বিয়ের পর দুই দিন হোটেলে থাকার পর এখন তারা নিজেদের বাড়িতে আছেন।
মোহাম্মদ তাওহিদ (লি বিং) জানান, তিনি একটি স্মার্ট লক (তালা) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
বাংলাদেশে এসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লি বিং বলেন, ‘আমার স্ত্রী খুব ভালো। স্ত্রীর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন খুবই আন্তরিক। আমি বাংলাদেশকে খুব পছন্দ করছি।’
তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, ‘মোবাইলফোনে তাদের পরিচয় হয়েছিল। ছেলেটি আমার মেয়েকে বিয়ে করার জন্য চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আমরা খুশি মনেই মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি।’
বিভিন্ন সময় বাইরের দেশ থেকে বিশেষ করে চীন থেকে অনেকেই বাংলাদেশে এসে বিয়ে করছেন, আবার কেউ কেউ প্রতরণার শিকারও হয়েছেন। এ বিসয়ে জানতে চাইলে তন্দ্রা খাতুন বলেন, ‘মোহাম্মদ তাওহিদকে (লি বিং) আমি তেমন মানুষ মনে করছি না, তকে বিশ্বাস করি। এখন ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ চলছে। ভিসা হলেই সে আমাকে চীনে নিয়ে যাবে।’