নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের বিরুদ্ধে ঘুসের টাকা আত্মসাৎ, মারধর ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা।
প্রদর্শনী বরাদ্দের নামে নেওয়া ঘুসের টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা ও ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে- দাবি করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মো. জিসানুর রহমান।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে মৎস্য কর্মকর্তা বলেছেন, কারও কাছ থেকে তিনি ঘুস নেননি।
মঙ্গলবার সকালে নড়াইল সদরের যদুনাথপুর গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিসানুর রহমান।
তিনি যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। আর অভিযুক্ত মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়।
লিখিত বক্তব্যে জিসান অভিযোগ করেন, গ্রামের কৃষক শ্রেণির লোকজন নিয়ে তার ওঠাবসা। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা অফিসে কাজের সুবাদে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে প্রদর্শনী দেওয়ার আশ্বাসে তিনি জিসানকে দিয়ে চারটি আবেদন করান। বাঁশগ্রাম, শেখহাটি, মুলিয়া ও তুলারামপুর ইউনিয়নের মোট চারটি আবেদনের বিপরীতে প্রদর্শনীগুলোর বরাদ্দে বিভিন্ন খরচ বাবদ মৎস্য কর্মকর্তা ৩০ হাজার টাকা নেন।
তিনি বলেন, ‘মুলিয়া ইউনিয়নের একটি ছাড়া আর বাকি তিনটির বরাদ্দ দেননি। এমনকি মুলিয়া ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত প্রদর্শনীর টাকা থেকেও ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে টাকা রেখে দেন। খামারিদের কাজ না করায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কয়েক দফায় ঘোরান।’
জিসানের অভিযোগ, সবশেষ গত ২৮ জুন বেলা তিনটার দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের অফিসে গিয়ে কাজ না করে দেওয়ায় ঘুসের টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত চাইতেই মৎস্য কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। টাকা নেওয়ার প্রমাণ দিতে বলে মৎস্য কর্মকর্তা তাকে অফিস থেকে বের করে দেন। পাশাপাশি তিনি বড়াই করে বলেন, ‘আগে পুলিশ মেরে পুলিশের চাকরি ছাড়ছি, দরকার হলে এবার তোকে মেরে এ চাকরিও ছাড়বো।’
এ ধরনের ব্যবহারের কারণে জিসান মোবাইলফোনে সব রেকর্ড করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা তার চেয়ার থেকে উঠে এসে ফোনটি হাত থেকে কেড়ে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন বলে দাবি করেন জিসান।
এ সময় তার অফিসের স্টাফ তকদির, দীপু ও জামশেদ এসে জিসানকে মারধর শুরু করেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে রায়হানের হাতের ধাক্কায় তার টেবিলে থাকা মনিটর পড়ে যায় এবং তারা সবাই মিলে জিসানকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারেন। তার টেবিলে থাকা পেপার ওয়েট দিয়ে বুকে-পিঠে আঘাতের পাশাপাশি গলায় থাকা সাড়ে ছয় আনার স্বর্ণের চেইন ছিড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।
তার অভিযোগ, মারধরের পর উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করেছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি নিজে থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে থানা থেকে জানানো হয়, সাক্ষী ছাড়া মামলা হবে না।
এদিকে, জিসানের করা অভিযোগের সত্যতা জানতে মঙ্গলবার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনি ছুটিতে আছেন। সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কোনো ঘুস নিইনি।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন রাতে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধাদান ও কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে জিসানসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।