যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বেইজিং থেকে যশোরে এসে বিয়ে করলেন চীনা যুবক

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন,২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ জুন,২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
বেইজিং থেকে যশোরে এসে বিয়ে করলেন চীনা যুবক

শত শত মাইলের দূরত্ব, ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা। কিন্তু কোনো বাধা থামাতে পারেনি দুই যুব-যুবার ভালোবাসা।

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন চীনা যুবক লি বিং।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করেছেন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার মেয়ে তন্দ্রা খাতুনকে।

ব্যতিক্রমী এই বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাইনিজ জামাইকে এক নজর দেখতে তন্দ্রাদের বাড়িতে ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার কৌতূহলী মানুষ।

তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলার তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত। তিনি জানান, প্রায় আট মাস আগে ‘হ্যালোটক’ অ্যাপের মাধ্যমে লি বিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয়। পরে ‘উইচ্যাট’-এ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়। একপর্যায়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

তন্দ্রা বলেন, ‘সে আমার টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। গত ১৮ জুন বাংলাদেশে আসে। পরদিন সন্ধ্যায় যশোর জজ কোর্টে ইসলামি রীতি অনুযায়ী আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আগে সে কোনো ধর্ম পালন করতো না। বিয়ের পর দুই দিন হোটেলে ছিলাম। এখন সে আমাদের বাড়িতে আছে। আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো আছি। ভিসার সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আমি তার সঙ্গে চীন চলে যাব।’

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের বাসিন্দা লি বিং জানান, তিনি একটি স্মার্ট লক (তালা) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

বাংলাদেশে এসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লি বিং বলেন, ‘আমার স্ত্রী খুব ভালো। বাংলাদেশের বাতাস খুব ভালো। স্ত্রীর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন খুবই আন্তরিক ও দয়ালু। এখানে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আমি বাংলাদেশকে খুব পছন্দ করছি। বিয়ের পর খুবই আনন্দিত।’

তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, ‘মোবাইলফোনে তাদের পরিচয় হয়েছিল। ছেলেটি আমার মেয়েকে বিয়ে করার জন্য চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আমরা খুশি মনেই মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি।’

প্রতিবেশী কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনও চীনের কোনো ছেলে এসে বিয়ে করেছে বলে শুনিনি। বিষয়টি খুব নতুন। তাই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চাইনিজ জামাইকে দেখতে আসছে। সবাই আনন্দের সঙ্গে বিষয়টি গ্রহণ করছে।’

স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া পরিচয় থেকে দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীর এই বিয়ে এখন এলাকার মূল আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব পেরি প্রেমের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়- এটাই এখন মানুষের মুখে মুখে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)