নড়াইল প্রতিনিধি
কালিয়া উপজেলার রাস্তার পাশ থেকে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এরা হলেন, চাচড়ি ইউনিয়ন পরিষদের আট নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মফিজুর রহমান (মাফুজ) ফকির ও আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব ফকির। অভিযুক্তদের মধ্যে মাফুজ ফকির আওয়ামী লীগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে কালিয়া উপজেলার চাচড়ি ইউনিয়নের হাড়িয়ারঘোপ গ্রামে সড়কের পাশে লাগানো সরকারি গাছ কাটা শুরু করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মাফুজ ফকির ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব ফকির। চারটি গাছ কাটা হলে স্থানীয়রা দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানান। খবর পেয়ে চাচড়ি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) ঘটনাস্থলে আসেন। সত্যতা নিশ্চিত হয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে বিষটি জানান নায়েব। তখন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইউপি সদস্যকে কাটা গাছগুলো ভূমি অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কাটা গাছগুলো উপজেলা ভূমি অফিসে জমা দেন অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্য। তবে এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চাচড়ি ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থনে ইউপি সদস্য হওয়া মাহফুজ ফকির বলেন, ‘হাড়িয়ারঘোপ গ্রামীণ সড়কের গাছগুলো লাগানো ও পরিচর্যা সমিতির সভাপতি আমি। গাছগুলো ঝড়ে ভেঙে গেলে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। গাছগুলো অধিকাংশ মরা। লোকজনের চলাচলের সুবিধার্থে গাছগুলো কাটা হয়েছিল। পরে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ফোন দিলে কাটা গাছগুলো উপজেলা ভূমি অফিসে জমা দিয়েছি।’

আরেক অভিযুক্ত আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব ফকির বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। কারা গাছ কেটেছে তা আমি জানি না। গতকাল দেখলাম ফেসবুকে আমার নামে গাছ কাটার অভিযোগ এনে বিভিন্ন রকম কথা লেখা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে আমার রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করার জন্য একটি মহল এহেন কুৎসা রটিয়েছে। আমি গাছ কাটার সাথে জড়িত না।’
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) শ্রাবণী বিশ্বাস বলেন, ‘গাছগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের। নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, না জানিয়ে গাছ কাটার জন্য মামলা করা হবে। গাছগুলো মামলার আলামত হিসাবে দেখানো হবে। তাই আমার এখানে রাখা হয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড কালিয়া উপজেলা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিউল্লাহ বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পেরেছি। গাছগুলো আলামত হিসাবে উপজেলা ভূমি অফিসে রাখা আছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলনান রয়েছে।’