স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের মণিরামপুরে মদনপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী আরিফুর রহমান (৮০) হত্যা মামলায় আটক স্ত্রী শেফালি খাতুন আসমা (৫৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
জমি নিয়ে ঝগড়ার মধ্যে ধাক্কা দিলে মাথায় আঘাত লেগে দুর্ঘটনাবশত স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন শেফালি।
বুধবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন আসামির এ জবানবন্দী গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। শেফালি নিহত আরিফুর রহমানের স্ত্রী ও একই গ্রামের মাওলা বক্স বিশ্বাসের মেয়ে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইউসুফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শেফালি খাতুন আদালতকে বলেছেন, ‘আমার স্বামী প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আমাদের ৪০ বছরের সংসার। আমরা দুইজন এক বাড়িতে বসবাস করতাম। দুই ছেলের নামে জমি লিখে দিতে চাওয়ায় দুইজনের মনোমালিন্য চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এ নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। আমি ধাক্কা দিলে মাথায় আঘাত লেগে খাটের ওপর শুয়ে পড়েন। সংসারের কাজকর্ম শেষে বারান্দায় এসে দেখি মড়ার মতো পড়ে আছেন। দ্রুত অন্যদের ডেকে আনলে তারা আরিফুরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়।’
দুর্ঘটনাবশত মাথায় আঘাত লেগে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্ত্রী শেফালি বেগম।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সন্ধ্যায় শেফালি বেগমের চিৎকারে বাড়ির লোকজন আরিফুর রহমানকে মৃত অবস্থায় বারান্দায় খাটের ওপর পায়। তার কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ শেফালি বেগমকে আটক ও লাশ মায়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ হত্যার সাথে জড়িত থাকায় নিহতের স্ত্রী শেফালিকে বেগমকে আটক করে বুধবার আদালতে সোপর্দ করে।