খুলনা অফিস
খুলনা ওয়াসার নিয়োগ পরীক্ষায় আগ্রহী ২৪ জন বিভাগীয় প্রার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রবিধানের দোহাই দিয়ে তাদের অধিকারবঞ্চিত করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ালেও সমাধান পাননি তারা।
আগামী শুক্রবার (১০ জুন) খুলনা ওয়াসার এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের দাবিতে ২৪ জন বিভাগীয় প্রার্থী হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। আদালত আদেশের কপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাদের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এই আদেশ আমলে না নিয়েই পরীক্ষা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন রিটকারীরা।
অপরদিকে আদালত রিট খারিজ করে দিয়েছে দাবি করে কর্তৃপক্ষ বলছেন, খুলনা ওয়াসার প্রবিধান অনুযায়ী বিভাগীয় প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ নেই। এ ঘটনায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রিটকারীদের আবেদন সূত্রে জানা যায়, খুলনা ওয়াসা ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যা ১৩ তারিখে কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রচলিত নিয়মে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার বিধান থাকলেও ওয়াসার এই বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগীয় প্রার্থীদের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক), প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও টাইপিস্ট, রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ক্যাশিয়ার, স্টোরকিপার, সিনিয়র সহকারী, পাম্প অপারেটর, যান্ত্রিক টেকনিশিয়ান ও বৈদ্যুতিক টেকনিশিয়ানের মোট ২১টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ওয়াসায় বর্তমানে বিভিন্ন পদে কর্মরত ২৪ জন এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করলেও তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
যার প্রেক্ষিতে তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন, নং-২২৭৩/২০২৬। ১৪ জুন বিচারপতি ফাতেমা নাজিব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের দ্বৈত বেঞ্চে আপীলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানি শেষে আদালত মামলার ২নং রেসপনডেন্ট খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আদেশের কপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আপিলকারীদের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
হাইকোর্টে রিটকারী খুলনা ওয়াসার ভান্ডার রক্ষক পদে কর্মরত রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে আবেদন করতে চেয়েছিলাম। ওয়াসায় আমার দশ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা আছে। এছাড়া আমাদের অনেকের প্রমোশন ডিউ রয়েছে। পুরনো কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনা না করেই নতুনদের নিয়োগ দিয়ে বড় ধরনের নিয়োগ-বাণিজ্য হতে যাচ্ছে বলে আমরা আভাস পাচ্ছি। হাইকোর্টে রিট করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’
খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জি এম আব্দুল গফফার অভিযোগ বলেন, ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ দেশের সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ এবং বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য থাকে। একমাত্র খুলনা ওয়াসায় এই নিয়ম মানা হয় না। এতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অনিয়ম করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, ২০২০ সালে এমন একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করায় সেই নিয়োগপ্রক্রিয়া থমকে যায়। মামলাটি এখনও চলমান।
খুলনা ওয়াসার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা জানান, নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছিল। হাইকোর্ট সেটি খারিজ করে দিয়েছেন। খুলনা ওয়াসা পরিচালনায় নিজস্ব প্রবিধান রয়েছে। সেখানে বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য আলাদা কোনো বিধান নেই। ফলে নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাউকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় খুলনা জিলা স্কুলে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।