কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঝিনাইদহ পৌর শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। রাস্তার উপর পানি জমে থাকায় মানুষ চলাচল করতে পারছে না।
সময় বদলায় কিন্তু জলাবদ্ধতা শেষ হয় না। বছরের পর বছর ধরে চলা জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
ঝিনাইদহ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পার করলেও শহরে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কোটি টাকার অপরিকল্পিত ড্রেন মহল্লাবাসীর জনদুর্ভোগ ও গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে পৌরকর্তৃপক্ষ বলছে, শহরের ছোট-বড় সব খাল, পুকুর ও নালা ভরাট করে বাড়ি তৈরি করার কারণে পানি বের হওয়ার কোনও রাস্তা নেই। তাই পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা পৌরসভার ড্রেন। এখন জলাবদ্ধতা নিরসনে পাড়া পাড়ায় সমস্যা চিহ্নিত করে অস্থায়ী ভিত্তিতে পানি বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রায় ৮০ ভাগ ড্রেনের কোনও মাথামুন্ডু নেই। বিভিন্ন মেয়রের আমলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন তৈরি করা হলেও একটির সঙ্গে অন্যটির কোনও সংযোগ নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই পানি ড্রেন ছাপিয়ে পাড়া মহল্লায় প্রবেশ করছে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ১৯৫৮ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা গঠিত হয়। এ পর্যন্ত ১৪ জন রাজনৈতিক নেতা মেয়র ও কয়েকজন আমলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিত ড্রেন তৈরিতে কেউ কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাট করে চলে গেছেন। ফলে ব্যাপারীপাড়া, পাগলাকানাই, আদর্শপাড়া, মহিলা কলেজপাড়া, উপ-শহরপাড়া, পাগলাকানাই এলাকার বদরউদ্দীন সড়ক, পূজা মন্দিরপাড়া, চাকলাপাড়া, কলাবাগান, গীতাঞ্জলি সড়ক, কাঞ্চননগর, হামদহ, পবহাটী, ভটিয়ারগাতি, আরাপপুরসহ ৩০ পাড়ায় ড্রেন থাকলেও কোনও প্রবাহ নেই।
ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, এখানকার ড্রেনগুলোতে কোনও প্রবাহ নেই। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। অনেক স্থানে ড্রেন ভেঙে সমান হয়ে গেছে। ফলে, বাসাবাড়ির পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে ড্রেনের ময়লা আবর্জনা ভেসে একাকার হয়ে যায়। আমরা হোল্ডিং ট্যাক্স দিচ্ছি, পৌর কর দিচ্ছি কিন্তু সেবা পাচ্ছি না।
পাগলাকানাই পূজা মন্দির এলাকার বাসিন্দা রিপন ঘোষ বলেন, পাগলাকানাই ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ড্রেনের কোনও মাথামুন্ডু নেই। বাসাবাড়ির পানি কোথায় গিয়ে পড়বে, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বরং ড্রেনের পানি উল্টো বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে।
তিনি জানান, শুক্রবারের বৃষ্টিতে তাদের পাড়ার বেশির ভাগ বাড়ির মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। জোড়াপুকুর উপচে শহীদ জিয়া সড়কটি এখন পানির নিচে।
স্থানীয় বাসিন্দা ব্যাংকার মাহবুব রহমান পানিমগ্ন পথ চলতে চলতে জানান, তাদের বাড়িতে প্রবেশর একমাত্র পথ বদরউদ্দীন সড়কটি তলিয়ে গেছে। ফলে, পাড়ার মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা খুব কষ্টে আছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান বলেন, ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় এলজিএসপি ও পাবলিক হেলথ- এর দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্রধান আরসিসি ড্রেন তৈরি ও শহর প্রকল্পের আওতায় ছোট বড় ১৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচলক রথীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কিছু হোটেল ও ক্লিনিকের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ড্রেন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। জনদুর্ভোগ নিরসনে কাজ চলছে। পানি জমে যাতে মানুষ কষ্ট না পায় সে জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারিরা পরিশ্রম করছেন।