চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চত্বরের প্রধান ফটকে নোটিস টাঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়।
মালিকানা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই অভিমত দিয়েছেন। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিসে বলা হয়, ‘ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, চুয়াডাঙ্গার সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষকণ্ডলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার কার্যক্রম আজ ২৩ জুলাই ২০২৬ খ্রি. থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকপক্ষ দাবিদার একটি পক্ষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ আলিমউদ্দীন লস্কর।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়েরই কয়েকজন ব্যক্তির যোগসাজশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানান এবং অভিযোগ করে বলেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়টি কুক্ষিগত করে রেখেছে, তারা অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে ক্লাস শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কে বৈধ আর কে অবৈধ, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা চাই দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।’
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরও অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোফাজ্জল হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ধীরে ধীরে নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে ওঠে এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন।