যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলেন শিক্ষার্থীরা

শাম্মী আক্তার মিথি

, খুবি

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুলাই,২০২৬, ০৭:০২ পিএম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলেন শিক্ষার্থীরা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) পরপর শিক্ষক ও হলের ক্যান্টিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ এবং ঘটনার বিচার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সব ধরনের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে তারা ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম এবং হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মচারীর বিচার দাবিতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

তবে আলোচনার পরও দাবিগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তাদের প্রথম দাবি, হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

দ্বিতীয় দাবি, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে অতিদ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। তৃতীয় দাবি, সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন ২৪’ নামের ক্লাবটির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং সময়ক্ষেপণ করেছে। তাদের ভাষ্য, দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

এর আগে, বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

পরে তারা হাদি চত্বরে অবস্থান নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার বৈঠকে বসেন। বৈঠকগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলসমূহের স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিনপ্রধান, আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্ট, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও অন্যান্য বিভাগের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এ ঘটনার তদন্তে হল প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এবং আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচালিত হল ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ এবং দুই ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া ছাত্রী হলের ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে রিভিউ আবেদন পাওয়াসাপেক্ষে পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী জানান, অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব ধারায় জামিনের সুযোগ নেই।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন ছাত্রীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলজুড়ে আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

এর আগে, চলতি বছরের ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানো ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ডিসিপ্লিন প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। বর্তমানে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করছে।

এ ছাড়া গত বছরের আগস্টে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আনেন। এর কিছুদিন পর অন্য বিভাগের আরেক ছাত্রীও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন। অভিযোগ দুটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। পরে গত ২৬ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটি দুটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪তম সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন দুটি গৃহীত হয়।

সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি অভিযোগ থেকে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে অন্য অভিযোগে তাকে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলা ডিসিপ্লিনে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)