যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

আন্দোলন জারি থাকছে খুবিতে

শাম্মী আক্তার মিথি

, খুবি

প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুলাই,২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
আন্দোলন জারি থাকছে খুবিতে

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয়-২৪ হলের নারীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংকট নিরসনে ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রশাসন-শিক্ষার্থী বৈঠকে উত্থাপিত চার দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। বৈঠক শেষে কয়েকটি দাবিতে আংশিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি ছিল অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে প্রশাসন জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এ পদক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয় দাবি ছিল, ঘটনার আগে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। প্রশাসন এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানায়। তবে শিক্ষার্থীরা কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটিকে বিলম্বের কৌশল হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

তৃতীয় দাবি ছিল যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক রুবেল আনসারী ও রেজাউল ইসলামকে দ্রুত অপসারণ বা বহিষ্কার। প্রশাসন জানায়, তদন্ত শেষে প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নীরব অবস্থানের সমালোচনা করে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

চতুর্থ দাবিতে ‘স্পন্দন-২৪’ নামে সংগঠনের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এই বিষয়ে প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক আবেদন পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রয়োজনীয় আবেদন ও তথ্য-প্রমাণ জমা দিয়ে সংগঠনটির নিবন্ধন বাতিলে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন তিথী বলেন, ‘এই ঘটনার পর অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, শুধু এই ঘটনার বিচার নয়, ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারে।’

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিত হাসান অর্ক বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে আন্দোলন করছি না। আমাদের মূল দাবি হলো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রশাসন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আছি।’

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, চার দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে আরও সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ও নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)