যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের কমিটি

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের কমিটি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের এক দিন পর নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইবি শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আগামী তিন মাসের জন্য ২৮ সদস্যের এ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

নিষিদ্ধ সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা সাংগঠনিক অপতৎপরতার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি ঘোষণার বিষয়টি জানানো হয়। এতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

কমিটিতে ২৭ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তারা হলেন, মো. মামুন-অর-রশিদ, মো. আলহাজ্ব আলী শ্রাবণ, তরিকুল ইসলাম তরুণ, রতন কুমার রায়, সামিউল ইসলাম, শাহিন আলম, মাসুদ রানা, সাব্বির আহমেদ আকিফ, রাব্বি হোসেন, নাছিম হাসান নাঈম, রাসেল আলী, রাকিবুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, মেসবাহুল ইসলাম, নাবিল আহমেদ ইমন, মো. সাদিদ খান সাদি, হুসাইন তুষার, অনিক কুমার, সোহাগ শেখ, তানভীর হাসান, রাব্বি হাসান, আকিব মাসুদ, পিয়াস মুস্তাকিম, সাগর আহমেদ, মো. রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার হিমেল ও পাভেল মোল্লা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মো. ফুয়াদ হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে তা সফল হবে না। জুলাইয়ের আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে দূরত্ব থাকলেও ছাত্রলীগের প্রশ্নে তারা ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীন। ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতা ঠেকাতে তারা সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ইবি শাখার সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত ক্যাম্পাসে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সুযোগ নেই। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কমিটিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইবি শাখার সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কমিটিতে থাকা ব্যক্তিরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী হন, তাহলে তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানানো হবে। আর তাঁরা সাবেক শিক্ষার্থী হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হবে। ক্যাম্পাসে তাঁদের কোনো কার্যক্রম নজরে এলে প্রশাসনকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর আওতায় ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে। ফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটির নামে নতুন কমিটি ঘোষণা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। নিষিদ্ধ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ ক্যাম্পাসে দেওয়া হবে না।

তবে প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো শিক্ষার্থী কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও দেওয়া যাবে না।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কমিটি ঘোষণার বিষয়ে দ্রুত অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এর আগে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হল শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক নেতার মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির এবং স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকজনের হাতে রামদা, ছুরি, চাপাতি ও জিআই পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)