এইচএসসির ফল বিপর্যয়:
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দশটি কলেজের সামগ্রিক ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ কলেজেই পাসের হার সন্তোষজনক নয়, যার মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৩০ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে। তবে প্রতিকূল এই ফলাফলের মধ্যেও পাসের হারে মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ উপজেলায় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে পাসের গড় হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজে সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে, মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার ৩৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৯১ জন কৃতকার্য হয়েছে; পাসের হার ৫২ দশমিক ২ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে উপজেলার সর্বোচ্চ ২০ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
উপজেলার অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পদ্মপুকুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৬০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২২৫ জন। এই প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন আটজন শিক্ষার্থী।
এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র ১৩ জন পাস করতে সক্ষম হয়েছে। এই কলেজে পাসের হার সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন।
ফলাফলের সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ কলেজেই বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিনটি বিভাগেই শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে ব্যর্থ হয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমার পাশাপাশি গড় পাসের হারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্থানীয় শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার শীর্ষ ফলাফলধারী প্রতিষ্ঠান মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম নিজ কলেজের সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের কলেজের এই অর্জনের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা কাজ করেছে। তবে বর্তমান সময়ে ভালো ফলাফলের ধারা বজায় রাখতে হলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের অপব্যবহার থেকে দূরে রেখে পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।’
এদিকে মহেশপুরের কলেজগুলোর এই হতাশাজনক ফলাফলের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতি, শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ যত্নের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে একযোগে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।