যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, ফি নিয়ে সমালোচনা

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর,২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর,২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, ফি নিয়ে সমালোচনা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ ও প্রাথমিক নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন উপলক্ষে ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। কার্যক্রম সফল করতে ২২টি উপকমিটিও গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রেজিস্ট্রেশন উপকমিটি সূত্র বলছে, সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান গণমাধ্যমে জানান, চলতি বছরের ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবর্তন ফি পাঁচ হাজার এবং সনদ ফি এক হাজার টাকা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে ‘বাড়তি ফি নির্ধারণ’ দাবি তুলে সমালোচনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সমালোচনার মুখে কিছু বক্তব্য শিথিল করে উপ-কমিটি। তাদের ভাষ্য, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ধরা যাবে না। বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় শিথিলযোগ্য।

তবে সম্ভাব্য প্রাথমিক ফি নির্ধারণের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা ও বেকার শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে এমন ফি নির্ধারণের প্রতিবাদ জানান তারা।

সমালোচনা করে প্রাক্তনরা বলেন, অনার্স ও মাস্টার্সের কাগজপত্র তুলতে আগে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করার পর আবার সমাবর্তনে অংশ নিতে ছয় হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা ব্যবসা ছাড়া আর কিছুই না।

ফি নির্ধারণের যৌক্তিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিগত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিজনেস প্ল্যান হয়তো বা এই পঞ্চম সমাবর্তন। একইসঙ্গে তারা নিবন্ধন ও সনদ ফির খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ফির তারতম্য তুলে ধরে পুনর্বিবেচনার দাবিও করা হয়।

এদিকে, সম্প্রতি ফি পুনর্বিবেচনায় আনার দাবি তুলছে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। সাড়ে তিন থেকে চার হাজার পর্যন্ত যৌক্তিক মনে করছে তারা।

এ নিয়ে রেজিস্ট্রেশন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, ‘বাজেট কমিটির মিটিং শেষে বলতে পারবো মোট কতো টাকা লাগবে। সম্ভবত সার্টিফিকেটের ফি-টা কমানো হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ইউজিসি থেকে ১০-১২ লাখ টাকার বেশি না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও স্পনসরের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কাঙ্ক্ষিত স্পনসরও পাওয়া যায় না। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে একটা খসড়া খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফি কমে গেলে আবার অনুষ্ঠানের গুণগত মান কমে যাবে। অনুষ্ঠানটা বৃহৎ পরিসরে হবে, যেখানে প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় সামর্থ্য অনুযায়ী ফি অবশ্যই কম রাখার চেষ্টা করবে। এছাড়া, ক্যম্পাসের বর্তমান শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি সম্ভবত সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা লেগে যায়; এই বিষয়ে কিছু করা যায় কি না আমি কথা বলে দেখবো। সামনে বাজেট কমিটির মিটিং হলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে।’

সমাবর্তনের বাজেট ও আনুমানিক খরচ নির্ধারণ নিয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সমাবর্তনের জন্য কতো অর্থ ব্যয় হবে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব আমরা আপাতত দিতে পারছি না। সমাবর্তনে যে কমিটিগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে তারা তাদের কতটুকু বাজেট প্রয়োজন সেটা ৪ তারিখে উপস্থাপন করবে। তারপর আমরা পূর্ণাঙ্গ একটা হিসাব দিতে পারবো।’

বাজেট নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বে বিষয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের দেওয়া সার্টিফিকেটের গুণগতমানের ওপর নির্ভর করে যে, বাজেট কেমন হবে। আপাতত খসড়া বাজেট ৫৮ লাখ টাকা; পরর্বতীতে এটা আমরা বিবেচনা করে দেখবো, আবার প্যান্ডেলের জন্য খসড়া বাজেট ৮০ লাখ টাকা, এগুলো আমাদের খসড়া হিসাব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘প্রস্তুতি শেষের দিকে। উপ-কমিটিগুলোকে তাদের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাননীয় রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করবেন বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছেন।’

২২ উপকমিটি
সমাবর্তনকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে ২২টি উপকমিটি গঠন করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিগুলো হলো- অর্থ উপকমিটি, সার্টিফিকেট মুদ্রণ ও বিতরণ উপকমিটি, স্মরণিকা উপকমিটি, রেজিস্ট্রেশন উপকমিটি, পদক, পুরস্কার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ উপকমিটি, অভ্যর্থনা উপকমিটি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা উপকমিটি, প্যান্ডেল ও ডেকোরেশন উপকমিটি, শোভাযাত্রা ও মহড়া উপকমিটি, স্বেচ্ছাসেবক উপকমিটি, গার্ড অব অনার উপকমিটি, স্পন্সর উপকমিটি, গাউন ও কস্টিউম উপকমিটি, প্রচার উপকমিটি, আইন ও নিরাপত্তা উপকমিটি, আপ্যায়ন উপকমিটি, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা উপকমিটি, চিকিৎসা উপকমিটি, আবাসন উপকমিটি, সাংস্কৃতিক উপকমিটি, পরিবহন উপকমিটি এবং আমন্ত্রণ উপকমিটি।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)