শাম্মী আক্তার মিথি
, খুবি
বিশ্বসেরা যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত ২০২৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে স্থান পায়নি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)। একসময় গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে সেই সুনাম হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এ র্যাংকিং প্রকাশিত হয়। এতে বিশ্বের এক হাজার ৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা পেয়েছে।
কিউএস-এর ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৩ বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নেয়। কিন্তু খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ তালিকায় স্থান পায়নি। ২০২৪ সাল থেকে তালিকায় নাম থাকলেও এবারই খুবি স্থান পায়নি।
এর আগে, ২০২৪ সালের র্যাংকিং প্রকাশিত হয় ২৭ জুন ২০২৩। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ১৪০০-এর পরে। তবে ২০২৫ সালের র্যাংকিং-এ খুবির অবস্থান ছিল ১২০০-১৪০০ এর মধ্যে। কিন্তু ২০২৬ সালে খুবির এ অবস্থান ১৪০০-এরও পরে চলে যায়।
কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং-২০২৭ অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।
র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়া দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো- ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই তথ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান স্কুলের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একসময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন র্যাংকিং থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বাদ পড়ছে। গত বছরও একটি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এর কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এভাবে একের পর এক বিশ্বমানের র্যাংকিং থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বাদ পড়া আমাদের জন্য হতাশাজনক।’
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক অ্যধাপক ড. মো. আশিক উর রহমান বলেন, খুবির কিউএস র্যাঙ্কিং নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত বছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৪০১+ ক্যাটাগরিতেই রয়েছে। কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের ডাটাবেজে খুবি ২০২৪ সালে প্রথম নিবন্ধিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ১৪০১+, ২০২৫ সালে ১২০০+। তবে ২০২৬ সালে আবার ১৪০১+ পজিশনে নেমে যায় এবং বর্তমান বছরেও একই অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ এলসেভিয়ার এর স্কোপাস ডাটাবেজ। বর্তমানে খুবির বিজ্ঞান ও লাইফ সায়েন্স স্কুলের গবেষকদের অবদান বেশি। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রধানত অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের গবেষণা দেখা গেলেও অন্যান্য ডিসিপ্লিন, বিশেষ করে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজসহ বেশ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের স্কোপাস ইনডেক্সড প্রকাশনার সংখ্যা খুবই কম।
এছাড়া কিউএস র্যাঙ্কিং এ আসতে হলে বিভিন্ন অনুষদ ও ডিসিপ্লিনের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণা প্রকাশনা সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে নয়টি সূচকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। প্রতিটি সূচকে ১০০ করে স্কোর থাকে। সব সূচকের যোগফলের গড়ের ভিত্তিতে সামগ্রিক স্কোর নির্ধারিত হয়। র্যাঙ্কিংয়ের সূচকগুলো হলো- গবেষণা ও আবিষ্কার, শিখন অভিজ্ঞতা, কর্মসংস্থান, বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা, স্থায়িত্ব, ইন্টারন্যাশনাল ফি ও স্কলারশিপ, স্টুন্ডেট মিক্স, ইংলিংশ টেস্ট এবং অ্যাকাডেমিক টেস্ট।