এম জুবায়ের মাহমুদ
, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে’ শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্গন্ধযুক্ত বন রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার পশ্চিম কৈখালী, মহাজেরিন ও মধ্য কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্গন্ধযুক্ত এসব রুটি সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ।
ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরণকৃত এসব বন রুটি ওজনে অন্তত ১০ গ্রাম করে কম বলেও অভিযোগ তুলেছেন এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। খবর পেয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলনের পক্ষ থেকে ২০ জুনের জন্য সব বিদ্যালয়ে রুটি বিতরণ কার্যক্রম বন্ধের জন্য প্রধান শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ঘাটতি পুরণের লক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনায় সারাদেশের ন্যায় শ্যামনগরেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল ফিডিং কর্মসুচি’ চালু হয়েছে। যার অংশ হিসেবে সপ্তাহে পাঁচদিন পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বন রুটির সাথে পালা করে দুধ, ডিম ও কলা বিতরণ করা হচ্ছে। সুশীলন নামে একটি এনজিও শ্যামনগর উপজেলার ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ‘পুষ্টিকর খাবার’ পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে রয়েছে।
৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তারের ভাষ্য, প্যাকেট থেকে রুটি বের করার পর গন্ধ ছুটছিল। খাওয়ার সময় তিতা লাগলে বিষয়টি তারা কয়েকজন শ্রেণি শিক্ষককে জানায়। ময়লা থাকার কথা বলে শিক্ষকরা তাদের রুটি খেতে নিষেধ করেন। বিদ্যালয় খোলার শুরুর কয়েকদিন একই ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত বন রুটি সবাইকে দেওয়া হয়েছিল বলেও তার দাবি।
মধ্য কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, শনিবার প্যাকেট থেকে খুলতেই বিশ্রি গন্ধ বের হতে থাকে। শিক্ষকরা 'চেক' করে রুটির গুণগতমান নষ্ট বুঝতে পেরে তা বিতরণ বন্ধ করেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেন। খাদ্যের মান যাচাইয়ে গঠিত কমিটির সদস্যরা প্রতিটি রুটির ওজন ১০ গ্রাম করে কম বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। এর আগে অপর কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে একই ধরনের কথা তাদের জানানো হয়।
সুশীলনের 'স্কুল ফিডিং কর্মসূচি'র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, শ্যামনগর উপজেলায় ২৬ হাজার রুটি সরবরাহ করা হয়। তাই একটি দুটি রুটি দিয়ে সব রুটির ওজন নিরুপণ করা সঠিক না।
তিনি জানান, শনিবার রুটিগুলো নষ্ট হওয়ায় কাউকে খেতে দেওয়া হয়নি। ইতিপূর্বেও দুর্গন্ধযুক্ত রুটি সরবরাহের বিষয়ে তিনি কোনও উত্তর দেননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনামুল হক বলেন, সুশীলন শ্যামনগরের ১৯১টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খাবার সরবরাহ করছে। শনিবার বন রুটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় তার গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর সবগুলো বিদ্যালয়কে রুটি গ্রহণ নিষেধ করার পাশাপাশি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যেসব বিদ্যালয় রুটি গ্রহণ করেছিল সেগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণে নিষেধ করা হয়।