ইবি প্রতিনিধি
কমপক্ষে তিনজন প্রার্থী উপস্থিত হওয়ার শর্ত পূরণ না হওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবনে এই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে প্রশাসন।
তবে, এই অর্থবছরের সময়কাল প্রায় শেষ দিকে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই অর্থবছরের মধ্যে নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করা গেলে পরবর্তী অর্থবছরে ইউজিসির অনুমোদনসাপেক্ষে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ মার্চ বিকেলে নিজ বিভাগের অফিস কক্ষে কর্মচারীর হাতে নিহত হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ইবি থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। এছাড়া, মামলায় বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যামসুন্দর সরকার, হাবিবুর রহমানকেও আসামি করা হয়। ফলে, তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রশাসন। এছাড়া বিভাগের অপর শিক্ষক মমতা মোস্তারী শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে বিভাগ সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় স্থবিরতা কাটাতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় ইবি প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে মাত্র তিনজন প্রার্থী উক্ত পদে আবেদন করলেও নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ায় দিন একজন অনুপস্থিত থাকেন। ফলে, কমপক্ষে তিনজন প্রার্থীর উপস্থিতির শর্ত পূরণ না হওয়ায় বোর্ড বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে মাত্র তিনজন আবেদন করলেও আজ (বুধবার) দুজন উপস্থিত ছিলেন, একজন আসেননি। ন্যূনতম তিনজন প্রার্থী উপস্থিত না থাকলে বোর্ড করা যায় না বিধায় আজকের বোর্ড বাতিল করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে মধ্যেই ইউজিসির অনুমোদনকৃত পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে তিনি বলেন, যদি এই অর্থবছরের মধ্যে নিয়োগ না হয় তাহলে পরবর্তী অর্থবছরে আবারও ইউজিসি থেকে অনুমোদন নেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তারপর নিয়মানুযায়ী নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে।