কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনটি স্থানে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে পদ্মার শাখা নদী মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানিও বেড়েছে। এতে এসব নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দৌলতপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়, কোলদিয়াড়, ফয়জুল্লাহপুর, হাটখোলাপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
গত ১৫ থেকে ২০ দিনে ভাঙনের ফলে কয়েকশ কৃষকের শতাধিক একর আবাদি জমি ও বিভিন্ন ফসল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, গত তিন দিনে জেলায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী তিন দিনও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে ১০ দশমিক ৫৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার।
অন্যদিকে, দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর এলাকায় এখনো ভাঙন শুরু না হলেও এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই নদীভাঙনে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বহু পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও স্থায়ী ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ভূরকাপাড়া এলাকার কৃষক সিহাব হোসেন বলেন, ‘গত ২০ দিনে আমার প্রায় ৫০ বিঘা পাটখেতসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিবছরই নদীভাঙনের শিকার হচ্ছি। এবারও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ২০ দিনে ইউনিয়নের শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিশেষ করে কোলদিয়াড় এলাকায় দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি তিনি সংসদে দুই দফা উত্থাপন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।