যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বর্জ্যেই সম্ভাবনার সোনা

রাব্বি আল-আমিন

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ১০ আগস্ট,২০২৬, ১১:০০ এ এম
বর্জ্যেই সম্ভাবনার সোনা

বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা কচুরিপানা, সবজির উচ্ছিষ্ট, গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, কাঠের গুঁড়া কিংবা নিমপাতা-যে জিনিসগুলোকে আমরা সাধারণত বর্জ্য বলে দূরে সরিয়ে রাখি, সেগুলোই কারও কারও কাছে হয়ে উঠতে পারে সম্ভাবনার উপকরণ। হতে পারে জীবিকার পথ। এমনকী বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার ইমরান হোসেন সেই বদলেরই একজন কারিগর।

একসময় মাসে ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করতেন তিনি। কর্মস্থল ছিল নিজের জেলা থেকে দূরে। পরিবার নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে বুঝতে পারেন, বেতন যতই নিয়মিত হোক, দূরে থেকে সেই জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তার জন্য সহজ নয়। শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে ফিরে আসেন বাড়িতে।

ফেরার পর কিছুদিন কেটে যায় অনিশ্চয়তায়। সামনে কোনো নিশ্চিত পথ নেই। বড় পুঁজি নেই। ব্যবসা করার অভিজ্ঞতাও নেই। কিন্তু নিজের কিছু করার তাগিদ ছিল।
সেই তাগিদ থেকেই বাড়ির ১০ শতক জমির মধ্যে মাত্র দুই শতক পতিত জায়গা বেছে নেন ইমরান। সেখানে তৈরি করেন চারটি পাকা হাউজ। শুরু করেন ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদন-জৈব উপাদান ও ট্রাইকোডার্মা নামের উপকারী ছত্রাক ব্যবহার করে তৈরি এক ধরনের জৈব সার।

সময় গড়িয়েছে মাত্র দেড় বছর

এই অল্প সময়েই সেই দুই শতকের উদ্যোগটি এখন রূপ নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক পুঁজিতে। শুধু সার উৎপাদনেই থেমে থাকেননি ইমরান। সার ও লিচেট বিক্রির আয় দিয়ে গড়ে তুলেছেন নার্সারি এবং সারের দোকান। নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করেছেন।

একসময় চাকরি খুঁজতেন যে তরুণ, এখন তার কাছেই কাজ করছেন অন্য মানুষ। তার তৈরি সার যাচ্ছে যশোরের বাইরেও-খুলনা, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহের কৃষক ও দোকানদারদের কাছে।

ইমরানের গল্প তাই কেবল একটি ছোট ব্যবসা সফল হওয়ার গল্প নয়। এটি এমন এক সময়ের গল্প, যখন কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাওয়া, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকটের মধ্যেই একটি ছোট উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।

চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফেরার গল্প

২০১৫ সালে পড়াশোনা শেষ করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে চাকরিতে যোগ দেন ইমরান হোসেন। ২০১৭ সালে তার বেতন ধাপে ধাপে ২০ হাজার টাকা হয়। কিন্তু কর্মস্থল ছিল ভিন জেলায়। পরিবার নিয়ে সংসার চালানোর বাস্তবতায় সেই জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।
ফেরার পর কিছুদিন কী করবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি। সেই সময় বেসরকারি সংস্থা শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ট্রাইকো কম্পোস্ট তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। পরে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় শুরু হয় তার নতুন যাত্রা।

নিজের বসতবাড়ির দুই শতক জমিতে পাকা চারটি হাউজ তৈরি করে সেখানে সার উৎপাদন শুরু করেন। বাড়ির অন্য অংশে সবজি চাষ করেন। পরে গড়ে তোলেন নার্সারি এবং সারের দোকান।

শুরুটা ছোট হলেও লক্ষ্য ছিল বড়

ইমরান বলেন, ‘বাড়িতে ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট এবং বাইরে থেকে শুধু মুরগির বিষ্ঠা ও ট্রাইকোডার্মা কিনে আমি এই উচ্চমানের সার তৈরি করছি। এই ট্রাইকো কম্পোস্ট খুব উন্নতমানের সার। এতে ১৬টি উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।’

তার উৎপাদিত সার এখন আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। কৃষক ও দোকানদাররা এই সার সংগ্রহ করে সবজি ও ধানের জমিতে ব্যবহার করছেন।
যা ছিল বর্জ্য, সেটিই এখন সম্পদ

ট্রাইকো কম্পোস্ট তৈরির প্রক্রিয়াটিও ইমরানের উদ্যোগের মতোই চমকপ্রদ।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, কচুরিপানা, কাঠের গুঁড়া, সবজির উচ্ছিষ্ট, চিটাগুড় ও নিমপাতা নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে এতে ট্রাইকোডার্মা অনুজীব প্রয়োগ করা হয়। এরপর টিন বা খড়ের চালার নিচে ছিদ্রযুক্ত পাকা হাউজে ৪০ থেকে ৪৫ দিন রেখে দেওয়া হয়। পচনের পর তৈরি হয় ট্রাইকো কম্পোস্ট।

এই প্রক্রিয়ায় পাওয়া যায় আরেকটি উপজাত-‘ট্রাইকো লিচেট’। এটি তরল নির্যাস, যা ফসলের বিভিন্ন রোগবালাই ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য কৃষকদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতি ব্যাচে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচে উৎপাদিত সার ও লিচেট বছরে পাঁচবার পর্যন্ত বাজারজাত করা সম্ভব। অর্থাৎ অল্প জায়গা ও তুলনামূলক কম পুঁজি দিয়ে একজন উদ্যোক্তা নিয়মিত উৎপাদন ও বাজারজাতের সুযোগ পাচ্ছেন।

বর্তমানে বাজারে ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেটজাত ট্রাইকো কম্পোস্ট প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং তরল লিচেট প্রতি লিটার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইমরানের কাছে অবশ্য এটি শুধু একটি ব্যবসা নয়। তার চোখে এটি কৃষিরও একটি বিকল্প পথ।

মাসে লাভ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার

দেড় বছরের পথচলায় ইমরানের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো শুধু ব্যবসার পুঁজি নয়; নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস। সার ও লিচেট বিক্রির মুনাফা দিয়ে তিনি নার্সারি ও সারের দোকান করেছেন। বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে তার লাভ থাকছে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

ইমরান বলেন, ‘সার ও লিচেট বিক্রির মুনাফা দিয়ে আমি একটি নার্সারি ও সারের দোকান দিয়েছি। বর্তমানে মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকছে।’

নিজের নার্সারিতেও ব্যবহার করছেন নিজের উৎপাদিত সার। অর্থাৎ উৎপাদন, ব্যবহার ও বিক্রি—তিনটি ক্ষেত্রই এখন একই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।
এখানেই থামতে চান না ইমরান

ইমরানের স্বপ্ন, উৎপাদন আরও বাড়ানো। তার বিশ্বাস, জৈব সারের ব্যবহার যত বাড়বে, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কৃষিজমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে করতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ট্রাইকো কম্পোস্ট ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা ফিরে আসবে এবং রাসায়নিক সারের প্রয়োগ কমে আসবে। এর ফলে কৃষকের জমিতে ফসল ফলাতে খরচ কমবে। আমার পাশাপাশি কৃষকরাও লাভবান হবেন।’

একজনের সাফল্যে অন্যদের স্বপ্ন

ইমরানের উদ্যোগের সবচেয়ে মানবিক দিকটি হয়তো এখানেই-তিনি একা এগিয়ে যাচ্ছেন না। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বিল্লাল হোসেন। আগে অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। নিয়মিত কাজ না থাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হতো। ইমরানের উদ্যোগে কাজ পাওয়ার পর বদলেছে তার জীবনযাত্রার বাস্তবতা।

বিল্লাল বলেন, ‘ইমরান যখন এই ব্যবসা শুরু করল, তখন থেকেই এখানে কাজ করি। আল্লাহর রহমতে এখান থেকে যে বেতন পাই, তাতে আমার সংসার ভালোভাবে চলে যায়। পাশাপাশি খরচ বাদ দিয়ে কিছু টাকা জমাতেও পারছি।’

এখন তার নিজেরও স্বপ্ন-একদিন ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদন করে বাজারজাত করবেন।

বাড়ির আঙিনায় ছোট সবজি ক্ষেতেও তিনি ইমরানের উৎপাদিত সার ও লিচেট ব্যবহার করেন। তার ভাষায়, ব্যবহারের পর আগের তুলনায় ফলন বেড়েছে এবং তিনি ভালো মানের সবজি পাচ্ছেন। অর্থাৎ ইমরানের উদ্যোগে শুধু একটি ব্যবসা তৈরি হয়নি; তৈরি হয়েছে আরেকটি সম্ভাবনার বীজ।

তরুণদেরও ভাবনা বদলাচ্ছে

ইমরানের সাফল্য নজর কেড়েছে এলাকার শিক্ষার্থীদেরও। শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম নাঈম তার কাছ থেকে সার কিনে নিজের ক্ষেত-খামারে ব্যবহার করেছেন। ফলন ভালো পাওয়ার পর নিজেই এই সার উৎপাদনের ব্যবসা শুরু করেছেন।

নাঈম বলেন, ‘আমার এলাকার বড় ভাই নিজ বাসার আঙিনায় সার উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। আমি নিজেও তার কাছ থেকে এই সার কিনে ক্ষেত-খামারে ব্যবহার করেছি। ভালো ফলন পেয়েছি। তার পরামর্শ নিয়ে আমিও এই সার উৎপাদনের ব্যবসা শুরু করেছি। আশা করি ভালো ফল আসবে।’

এভাবেই একজনের উদ্যোগ অন্যজনের আগ্রহ তৈরি করছে। চাকরির অপেক্ষায় থাকা তরুণের চোখে উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

ইমরানও তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের সমাজে অনেক যুবক এখনো চাকরির পেছনে ছুটছে। তারা যদি চাকরির পেছনে না ছুটে আমার মতো উদ্যোক্তা হয়, তাহলে আমার মতো তারাও একদিন সফল উদ্যোক্তা হতে পারবে।’

মাটির জন্যও জরুরি

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে জমির জৈব পদার্থ কমে যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাটিতে যেখানে ৫ শতাংশ জৈব পদার্থ থাকার কথা, সেখানে অনেক জায়গায় তা ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই বাস্তবতায় জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের কৃষি কর্মকর্তা রিজু শিকদার বলেন, ‘চাষিরা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে জমির উর্বরতা নষ্ট করে ফেলছেন। উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে ট্রাইকো কম্পোস্টের ব্যবহার খুবই জরুরি। এই সার মাটি ও গাছকে ম্যাক্রো ও মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট জোগায় এবং লিচেট রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।’

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত দশ থেকে ১২ জন উদ্যোক্তাকে আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়ে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে। প্যাকেটজাত ও ব্র্যান্ডিং করে বাজারজাত করতেও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের চোখে নতুন সম্ভাবনা

যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, জৈব সারের বিভিন্ন রূপের মধ্যে ট্রাইকো কম্পোস্ট কৃষকদের কাছে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ব্যবহারে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, বিশেষ করে ছত্রাকজনিত রোগের বিরুদ্ধে সক্ষমতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ফসলের গুণগত মান ভালো হয় এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে।

তিনি বলেন, ‘রাসায়নিক সার আমদানিতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। ট্রাইকো কম্পোস্টের ব্যবহার বাড়লে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন অনেকাংশে কমবে। কৃষকরা ট্রাইকো লিচেট ব্যবহার করেও বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড় থেকে ফসলকে রক্ষা করতে পারবেন।’

যশোর সবজি প্রধান জেলা হওয়ায় এ ধরনের সার উৎপাদন ও বাজারজাতের আরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের ব্যবসায় অনেক উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছেন। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তারা সার তৈরি করছেন এবং বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছেন। তারা যেমন নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি অন্যকেও স্বাবলম্বী করছেন।’

তার মতে, নতুন উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ, লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

দুই শতক জমি থেকে যে স্বপ্নের বিস্তার

ইমরানের গল্পের শুরুটা হয়েছিল খুব ছোট জায়গায়-মাত্র দুই শতক জমিতে। সেই জমিতে তৈরি চারটি হাউজ এখন তার কাছে শুধু ব্যবসার অবকাঠামো নয়; এগুলো তার জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার সাক্ষী।

একসময় ২০ হাজার টাকার চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, আজ সেখানে আছে নিজের ব্যবসা, নার্সারি, সারের দোকান এবং কর্মসংস্থান তৈরির আত্মবিশ্বাস।

আর সবচেয়ে বড় কথা-তিনি দেখিয়েছেন, উদ্যোক্তা হতে সব সময় বড় পুঁজি লাগে না। কখনো কখনো প্রয়োজন হয় একটি সুযোগ, কিছু প্রশিক্ষণ, সামান্য জায়গা এবং কাজ করার অদম্য ইচ্ছা।

বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট, গোবর কিংবা কচুরিপানা তার কাছে আর আবর্জনা নয়। সেগুলোই এখন তার ব্যবসার কাঁচামাল। সেই কাঁচামাল থেকে তৈরি হচ্ছে সার, সার থেকে আসছে আয়, আর সেই আয় থেকে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।

ইমরানের নিজের ভাষায়, আরও বড় পরিসরে উৎপাদনের সুযোগ পেলে তিনি আরও বেশি কৃষকের কাছে জৈব সার পৌঁছে দিতে চান। সরকারি সহায়তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে তার মতো উদ্যোক্তারা আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন-এমনটাই তার প্রত্যাশা।

চৌগাছার সেই দুই শতক জমিতে তাই এখন শুধু সার তৈরি হয় না। সেখানে তৈরি হচ্ছে একটি ধারণা-বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার ধারণা; চাকরির অপেক্ষা না করে নিজের কর্মসংস্থান তৈরির ধারণা; আর কৃষির ভবিষ্যৎকে আরও পরিবেশবান্ধব করার স্বপ্ন।

ইমরানের দুই শতকের সেই ছোট্ট উদ্যোগ হয়তো গ্রামীণ অর্থনীতির পুরো চিত্র বদলে দেওয়ার মতো বড় নয়। কিন্তু এটি একটি দিক দেখায়।

যে দিকের শুরু হতে পারে ঘরের আঙিনা থেকে, আর যার গন্তব্য হতে পারে স্বাবলম্বিতা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন