যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

শেষ রোগী না দেখে ওঠেন না যে ডাক্তার

আসাদুজ্জামান সরদার

, সাতক্ষীরা

প্রকাশ : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১১:০০ এ এম
শেষ রোগী না দেখে ওঠেন না যে ডাক্তার

চিকিৎসা পেশাকে সর্বকালেই সেবার ব্রত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, বর্তমান বাণিজ্যিক যুগে দায়িত্ববোধ ও পেশাগত নিষ্ঠার উদাহরণ যখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফেরে, তখন তা সমাজে নতুন আশার আলো সঞ্চার করে।

সাতক্ষীরায় শিশু স্বাস্থ্যসেবায় তেমনি এক নির্ভরতার নাম ডা. মো. রিয়াদ হাসান। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ তাকে স্থানীয় শিশু ও অভিভাবকদের কাছে এক মানবিক চিকিৎসকের রূপ দিয়েছে।

ডা. মো. রিয়াদ হাসান সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশুরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। এমবিবিএস ও বিসিএস (স্বাস্থ্য) সম্পন্ন করার পর তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) থেকে শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রতিদিনই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে শত শত শিশু রোগী নিয়ে স্বজনরা যান। সেখানে নিয়মিত ও যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে রোগীদের সেবা দেন ডা. রিয়াদ।

হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহির্বিভাগের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো শিশু রোগী চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সেবা দেওয়া বন্ধ করেন না। শেষ রোগীটি না দেখা পর্যন্ত তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন না। শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিটি শিশুর শারীরিক সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সঠিক নির্দেশিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার জুড়ি নেই।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রং-তুলি আর্ট’-এর স্বত্বাধিকারী ও রক্তদাতা মোহেব উল্যাহ বলেন, সাধারণত চিকিৎসকের কাছে এলে শিশুরা ভয় পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। কিন্তু ডা. রিয়াদ হাসানের হাসিমুখের কথা ও আন্তরিকতা মুহূর্তেই শিশুদের সেই ভীতি দূর করে দেয়। শুধু তাই নয়, শিশুদের অভিভাবকদের প্রতি তার ধৈর্যশীল আচরণ ও অসুখের বিস্তারিত বুঝিয়ে বলার ধরন স্বজনদের মানসিকভাবে আশ্বস্ত করে।

নিজের পেশাগত নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে ডা. মো. রিয়াদ হাসান বলেন, চিকিৎসা কেবল কোনো পেশা নয়, এটি মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার একটি প্রতিশ্রুতি। শিশুরা নিজেদের কষ্টের কথা গুছিয়ে বলতে পারে না, তাই তাদের চিকিৎসায় প্রেসক্রিপশনের চেয়েও বেশি প্রয়োজন ধৈর্য ও স্নেহের। হাসপাতালে সময় পার হয়ে গেলেও বাইরে কোনো অসুস্থ শিশু অপেক্ষায় আছে জানলে আমি কাজ শেষ না করে উঠতে পারি না। একটি শিশুর সুস্থ হাসি আর স্বজনের মুখের স্বস্তিই একজন চিকিৎসকের জীবনের প্রকৃত প্রাপ্তি।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সহকর্মী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, সরকারি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা সহজ কথা নয়। সততা ও দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়ে ডা. রিয়াদ হাসান যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অন্য চিকিৎসকদের জন্যও অনুপ্রেরণার। দেশের প্রতিটি হাসপাতালে এমন মানবিক স্পর্শ বজায় থাকলে পুরো স্বাস্থ্য খাতের ওপরই সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)