মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ৩১ শয্যার এই সরকারি হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শয্যা না পেয়ে রোগীরা হাসপাতালের বারান্দা ও করিডোরের মেঝেতে মানবেতর অবস্থায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪৫ জন রোগী ভর্তি থাকলেও সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেই সংখ্যা ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
যার মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ৬৮ জন নারী এবং ৩৯ জন শিশু রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও পেটে ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা প্রচণ্ড গরমে হাসপাতালের বারান্দায় নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছেন।
পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় এবং ভোরে শৌচাগারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘ সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে নতুন ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন।
তবে দীর্ঘ দশ বছরেও প্রশাসনিকভাবে ৫০ শয্যার জনবল কাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্দ না আসায় হাসপাতালটি এখনো ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে। ফলে এটি এখন ‘নামে ৫০, বাস্তবে ৩১’ শয্যার হাসপাতালে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা রীতিমতো অসহায় বোধ করছি। রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় নতুন রোগীদের জায়গা দেওয়াটাই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন ‘
মহম্মদপুরবাসীর দাবি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ৫০ শয্যার সুবিধা চালু এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকটের অবসান ঘটানো হোক।