সুবর্ণভূমি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩২ জন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানায়, নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও এক শিশু রয়েছে।
শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলার হাবুশ এলাকায় প্রথমে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে পরবর্তীতে সেখানে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এসময় দুই নারী ও এক শিশুসহ আটজন নিহত হন। এ ছাড়া সিডন জেলার জারারিয়ে এলাকায় চারজন এবং টায়ার জেলার আইন বাআল এলাকায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা লেবাননের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও তাদের একজন সেনা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে সংঘাতে ১৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হলো।
ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর গত ১৬ এপ্রিল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে হিজবুল্লাহর হাত থেকে রক্ষায় সহায়তা করবে।
হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির অংশ না হলেও তারা জানিয়েছিল, ইসরায়েল শর্ত মেনে চললে তারাও যুদ্ধবিরতি পালন করবে। তবে বাস্তবে বৈরুত এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলো শান্ত থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত ও বিমান হামলা থামেনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরুর পর মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী পুনরায় দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করে। বর্তমানে তারা লেবাননের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা দখল করে রেখেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২,৫৮৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও উদ্ধারকর্মী রয়েছেন।
আইডিএফ দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা দক্ষিণ লেবাননে প্রায় ৫০টি হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, হিজবুল্লাহর সামরিক সদর দপ্তর এবং সামরিক কাজে ব্যবহৃত ভবনগুলোই ছিল এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু।