যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ২ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ট্রাম্পের অন্ধকার যুগ বিশ্ব রাজনীতিতে যেভাবে নতুন ধারার জন্ম দিচ্ছে

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : শনিবার, ২ মে,২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ট্রাম্পের অন্ধকার যুগ বিশ্ব রাজনীতিতে যেভাবে নতুন ধারার জন্ম দিচ্ছে

লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও ডি আগুইয়ার প্যাট্রিওটা সম্প্রতি এক বক্তৃতায় আধুনিক বিশ্বের এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছেন। তার মতে, বর্তমান পৃথিবী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পরিবেশের বিপর্যয়, একের পর এক যুদ্ধ এবং লাগামহীন সামরিক বাজেটের মতো সংকটে জর্জরিত। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার চরম অবমাননা, বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা, গণতান্ত্রিক শাসনের দুর্বলতা এবং একই সঙ্গে আশা ও ভীতি জাগানো প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ আমাদের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে এই চরম নৈরাজ্যের মধ্যেও তিনি আশার এক নতুন সুর শুনতে পাচ্ছেন। তার মতে, আপাতদৃষ্টিতে সবকিছু থমকে গেছে মনে হলেও ভেতরে ভেতরে এক বিশাল পরিবর্তন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তথাকথিত ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। একদিকে রয়েছে একক আধিপত্যবাদী পরাশক্তি এবং অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে বহুপাক্ষিকবাদে বিশ্বাসী এক বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী।

এই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে ইরানের যুদ্ধ। ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের মতে, ইরানে পরিচালিত অত্যন্ত অজনপ্রিয় এবং অবৈধ যুদ্ধটি একতরফা আধিপত্যবাদের কারণে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এই সংঘাত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিশ্বকে আর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে বা একমুখী মেরুকরণে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা নীতি এবং আইন অমান্য করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অন্ধকার যুগটি এখন দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালির সংকটের মধ্য দিয়ে যেন আমেরিকার এই একক আধিপত্যের পতন ঘটছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে পশ্চিমা অন্যান্য দেশগুলো এখন নতুন করে নিজেদের অবস্থান সাজিয়ে নিচ্ছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকার দিন শেষ।

পারস্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর ক্ষেত্রে আমেরিকার দেওয়া নিরাপত্তা বলয় কতটা ভঙ্গুর ছিল, তা আজ সবার সামনে স্পষ্ট। এমনকি ইউক্রেন সংকটের ক্ষেত্রেও এই নিরাপত্তা নীতি ইউরোপের স্বার্থ রক্ষায় তেমন কোনো কাজে আসেনি। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশই এখন উপলব্ধি করতে পারছে যে কোনো একটি নির্দিষ্ট শক্তির পেছনে না ছুটে বরং বিভিন্ন দেশের সাথে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)